ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয় বিভাজনের কারণ হতে পারে না: ডেপুটি স্পিকার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ । ৫:২২ পূর্বাহ্ণ

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শুক্রবার রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত ঢাকা ওয়ানগালা-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, ধর্মীয় পরিচয় কিংবা জাতিগত ভিন্নতা কোনো অবস্থাতেই বিভাজনের মাপকাঠি হতে পারে না। বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য এবং এ বিষয়ে রাষ্ট্র সদা তৎপর রয়েছে।

ডেপুটি স্পিকার তার বক্তব্যে পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে বিরাজমান অসাম্প্রদায়িক মেলবন্ধনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান বা নৃ-তাত্ত্বিক পরিচয়ের ভিন্নতা থাকলেও জাতীয় স্বার্থে সবাই একই ছাতার নিচে ঐক্যবদ্ধ। এই ঐক্যের সুর ধরে রেখেই রাষ্ট্র এগিয়ে যাচ্ছে এবং সামনের দিনগুলোতেও এই সমন্বিত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি প্রগতিশীল সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তিনি যোগ করেন, যে কোনো ধরনের ধর্মীয় বা সামাজিক পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষকে আলাদা করে দেখার অবকাশ নেই, বরং তাদের নাগরিক অধিকার সমুন্নত রাখাই রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব।

বর্তমান সরকার দেশের সংবিধান অনুযায়ী সব ধর্মাবলম্বীর ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, সাম্য, স্বাধীনতা ও মানবিক মর্যাদাকে ধারণ করেই বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি পেয়েছে। এই অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে আরও বেগবান করতে সরকার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উৎসব ও সামাজিক আয়োজনে সম্পৃক্ততা বাড়াচ্ছে, যা আন্তঃধর্মীয় ও আন্তঃসাংস্কৃতিক বোঝাপড়াকে সহজতর করবে। ওয়ানগালা উৎসবের মতো এমন আয়োজন বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুধীজন ও আয়োজকরা মনে করছেন, রাষ্ট্রের একজন উচ্চপদস্থ প্রতিনিধির মুখ থেকে এই ধরনের বক্তব্য সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেবে। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের কাছে এই বার্তা অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তারা আশা করছেন, উন্নয়নের পাশাপাশি সংস্কৃতির লালন ও রক্ষার ক্ষেত্রে সরকারি সহযোগিতা আগামী দিনগুলোতে আরও বৃদ্ধি পাবে। ওয়ানগালা উৎসবের মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজনগুলো কেবল একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পুরো জাতির উৎসবে পরিণত হওয়ার সক্ষমতা রাখে।

পরিশেষে, ডেপুটি স্পিকারের বক্তব্যে জাতীয় ঐক্যের যে আহ্বান উঠে এসেছে, তা বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী। তিনি সবাইকে আহ্বান জানান, বিভাজনের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সবাই যেন দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যান। সব ধর্মের মানুষের সমান অংশগ্রহণ এবং অধিকারের নিশ্চয়তাই পারে একটি সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়তে, যেখানে ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয় কেবল বৈচিত্র্যের সৌন্দর্য হিসেবে গণ্য হবে, কোনো বিভেদের দেয়াল হিসেবে নয়। সরকারের এই অবস্থান আগামীতে অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনে মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন