গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সে ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় নিন্দা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ । ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ

রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার অভাব ও তাদের ওপর বলপ্রয়োগের ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন দলটির সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা। মূলত কলেজের অধ্যক্ষকে অপসারণের দাবিকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরেই উত্তপ্ত ছিল কলেজ ক্যাম্পাস। এই আন্দোলনের মধ্যেই রাতে পুলিশের পক্ষ থেকে লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনরত ছাত্রীরা দাবি জানিয়েছেন, বর্তমান অধ্যক্ষের প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং তাদের বিভিন্ন দাবির বাস্তবায়ন হচ্ছে না। গত ৫ নভেম্বর থেকে এই আন্দোলন নতুন করে দানা বেঁধে ওঠে এবং শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেন। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং রাত গভীর হওয়ার এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিতে পুলিশের পক্ষ থেকে লাঠিচার্জ করা হয় বলে জানা গেছে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগীয় সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দিককা একটি বিবৃতি প্রদান করেছেন। তিনি জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিজের দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করা শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার। অথচ, সেই গণতান্ত্রিক পরিবেশে আন্দোলনরত ছাত্রীদের ওপর পুলিশের এমন ন্যাক্কারজনক হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি পুলিশের এই আচরণের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, শিক্ষাঙ্গন হবে জ্ঞানচর্চার জায়গা, সেখানে শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগের সংস্কৃতি কোনো সুস্থ সমাজব্যবস্থায় কাম্য হতে পারে না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর বিষয়ে কর্ণপাত না করে উল্টো তাদের ওপর চড়াও হয়েছে। এটি শিক্ষার্থীদের ভয়ের মধ্যে রাখার একটি কৌশল হতে পারে, যা শিক্ষার পরিবেশকে আরও অনিশ্চিত করে তুলবে। অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর এই নেত্রী। তিনি একইসঙ্গে আহত শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এবং দাবি করেন যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চলমান অচলাবস্থার অবসান ঘটানো হয়। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, শিক্ষার্থীদের ওপর এমন দমন-পীড়ন অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

বর্তমানে কলেজ ক্যাম্পাস ও এর আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থানে অনড় থেকে দাবি আদায়ের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, আলোচনার কোনো উদ্যোগ না নিয়ে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করা হলে তা ভবিষ্যতে কোনো সমাধান বয়ে আনবে না। এখন পুরো বিষয়টি কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন