সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শ্রীময়ী রীতা রানী নামে এক নারীকে মারধরের ঘটনা নিয়ে যে চাঞ্চল্যকর তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সাম্প্রতিক সময়ে এই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এ ঘটনার সঙ্গে পুলিশের কোনো যোগসূত্র বা অভিযোগ গ্রহণের রেকর্ড নেই।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের পক্ষ থেকে উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেনের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মিরপুর মডেল থানায় শ্রীময়ী রীতা রানীকে মারধরের অভিযোগ সংক্রান্ত কোনো মামলা বা জিডি দায়ের করা হয়নি। ফেসবুকে যে তথ্যগুলো প্রচার করা হচ্ছে, তা বিভ্রান্তিকর এবং ভিত্তিহীন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত না হয়ে কিংবা আইনি অভিযোগের কোনো প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও এমন তথ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে পুলিশের ভাষ্য।
পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, মিরপুর মডেল থানার আওতাধীন এলাকায় এ ধরনের কোনো সহিংসতার ঘটনার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এ ধরনের ঘটনার দাবি করে থাকেন, তবে তারা কোনো আইনি প্রক্রিয়ার আশ্রয় নেননি। তাই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া পোস্ট বা সংবাদের ভিত্তিতে কোনো মন্তব্য করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্যের সত্যতা যাচাই করা জরুরি।
ডিএমপির পক্ষ থেকে জনসাধারণকে এই ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো বিষয়ে প্রকৃত ঘটনা জানতে হলে বা অভিযোগ থাকলে সরাসরি নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ প্রচলিত আইন অনুযায়ী গুজব ছড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং গুজব রুখতে ডিএমপি বরাবরই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে আসছে।
উল্লেখ্য যে, ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অবাধ ব্যবহারের ফলে প্রায়ই যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভিন্ন স্পর্শকাতর খবর ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় ব্যক্তিগত আক্রোশ বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন তথ্য প্রচার করা হয় যা সামাজিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এক্ষেত্রে সচেতন নাগরিকদের কোনো তথ্য পাওয়ার পর তার উৎস এবং সত্যতা যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ তাদের বিজ্ঞপ্তিতে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে যে, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিচার না করে আইনের দ্বারস্থ হওয়া উচিত। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ । ১:১৪ পূর্বাহ্ণ