চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে গুলিতে আহত বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ । ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হরিহরনগর সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মনিরুল ইসলাম নামের এক বাংলাদেশি নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ এ ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পরপরই বিএসএফ সদস্যরা আহত যুবককে উদ্ধার করে বা আটক করে তাদের সীমানার ভেতরে নিয়ে গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। আহত মনিরুল ইসলাম স্থানীয় হরিহরনগর গ্রামের লিয়াকত ইসলামের ছেলে। তার বয়স ৩৫ বছর বলে পরিচয় পাওয়া গেছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও গ্রামবাসীদের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে হরিহরনগর সীমান্তের প্রধান ফটক বা সংলগ্ন এলাকায় হঠাৎ করেই গুলির শব্দ শোনা যায়। এরপরই স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে দেখতে পান বিএসএফ সদস্যরা মনিরুলকে আহত অবস্থায় আটক করে রেখেছেন। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিএসএফ তাকে ভারতের ভূখণ্ডের দিকে নিয়ে যায়। ওই যুবক ঠিক কী কারণে বা কোন পরিস্থিতিতে সীমান্তে গিয়েছিলেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা জল্পনা চলছে। তবে বিএসএফের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

ঘটনার পর পরই স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সীমান্তে এ ধরনের ঘটনার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। আহত মনিরুল ইসলাম জীবিত আছেন নাকি বিএসএফের গুলিতে তিনি মারা গেছেন, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পক্ষ থেকে এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ওই এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এর আগেও সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় অনুপ্রবেশ কিংবা চোরাচালান সংক্রান্ত বিষয়ে বিএসএফের গুলি চালানোর একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে সবসময়ই এক ধরনের অস্বস্তি কাজ করে। জীবননগরের এই সীমান্তটিতে এর আগেও নানা সময়ে অপ্রীতিকর ঘটনার নজির রয়েছে।

বর্তমানে আহত মনিরুল ইসলামের শারীরিক অবস্থা কী এবং তাকে ভারতের কোন হাসপাতালে বা কোথায় রাখা হয়েছে, তা নিয়ে পরিবারের সদস্যরা উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে কোনো সাড়া দিয়েছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত কিছু জানা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় প্রশাসন ও বিজিবি পর্যায়ের যোগাযোগের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও মনিরুলের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানার চেষ্টা চলছে। সীমান্ত এলাকায় এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে ঘটনাটির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন