সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তৎপরতা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আলোচিত এই মৃত্যুর ঘটনায় আটক দুই আসামিকে বারবার রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশের ভাষ্যমতে, সাউরির মৃত্যুর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি এবং তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্পর্কের নানা দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উন্মোচন করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় পুলিশ বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। জানা গেছে, ঘটনার রাতে তাহসিফ সাউরি এক বান্ধবীর সঙ্গে একটি বারে সময় কাটিয়েছিলেন। সেই বান্ধবীর আচরণ এবং ওই রাতে তাদের গতিবিধি রহস্যের সৃষ্টি করেছে। বারে অবস্থানকালীন সময় থেকেই ওই নারীর অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ্য করা গেছে বলে প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে। এরপর গভীর রাতে তাহসিফ তার এক জুনিয়র বন্ধুর সঙ্গে মাদকপ্রবণ একটি এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সেই যাত্রার উদ্দেশ্য এবং মধ্যরাতের ওই ভ্রমণ নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
নিখোঁজের পরদিন সকালে নদী থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পাওয়া গেছে। তবে মৃত্যুর কারণ পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার জন্য তদন্তে কোনো তাড়াহুড়ো করতে চায় না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রিমান্ডে থাকা আসামিদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সঙ্গে উদ্ধারকৃত ক্লুগুলো মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, কোনো ধরনের অনুমাননির্ভর সিদ্ধান্তে না গিয়ে বৈজ্ঞানিক ও বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণের ভিত্তিতেই ঘটনার চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।
তদন্তকারী দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্তদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের মূল উদ্দেশ্য হলো ঘটনার আগের সেই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল তার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া। কারণ, তাহসিফের মৃত্যুটি দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে পরিকল্পিত কোনো ঘটনা রয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। আসামিদের জবানবন্দিতে অসংগতি থাকায় তাদের ওপর বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ ও কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে দেখার কাজও চলছে সমান্তরালে।
সাবেক এই সামরিক কর্মকর্তার পরিবারের দাবি, তাহসিফের অকাল ও রহস্যজনক মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। এদিকে পুলিশ বলছে, মামলার তদন্ত প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। অপরাধীদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। খুব দ্রুতই ঘটনার নেপথ্যে থাকা রহস্যের জট খুলে যাবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। এখন আসামিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পুনর্গঠন করাই তদন্তকারীদের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ । ১১:১৪ অপরাহ্ণ