মাধবপুরে জাতীয় গ্রিডের পাইপলাইন ছিদ্র করে তেল চুরির ঘটনায় মামলা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ । ২:১৫ অপরাহ্ণ

হবিগঞ্জের মাধবপুরে জাতীয় গ্রিডের কনডেনসেট পরিবহনের পাইপলাইনে অভিনব কায়দায় ছিদ্র করে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল চুরির ঘটনা সামনে এসেছে। স্থানীয় পর্যায়ে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ অপকর্ম চালিয়ে আসছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের এক সাবেক সদস্যসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড বা জিটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, মাধবপুর এলাকার ভেতর দিয়ে যাওয়া তাদের কনডেনসেট পরিবহনের মূল পাইপলাইনটি কোনো এক সময় কৌশলে ছিদ্র করে অপরাধীরা তেল চুরি করছিল। এই চুরির মাত্রা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, হিসেব অনুযায়ী প্রায় ৪ হাজার ২৯২ লিটার তেল এরই মধ্যে খোয়া গেছে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। মাটির নিচ দিয়ে যাওয়া পাইপলাইনের ওপর কারসাজি করে একটি গোপন ট্যাংক বা আধার তৈরি করে তারা এই তেল সংরক্ষণ ও পাচার করত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় জিটিসিএল-এর উপব্যবস্থাপক জায়েদ হোসেন বাদী হয়ে গত বুধবার রাতে মাধবপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ইসলাম উদ্দিনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, চক্রটি দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জাতীয় সম্পদের এই বিশাল ক্ষতি সাধন করেছে। মাটির গভীরে পাইপলাইন ছিদ্র করে তেল বের করার মতো বিপজ্জনক এই কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও ছিল, যা এলাকার নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করেছিল।

স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও কোম্পানির কর্মকর্তাদের প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, অপরাধীরা অত্যন্ত গোপনে এই ছিদ্রপথ তৈরি করেছিল যাতে বাইরের কারো নজর না পড়ে। মাটির নিচ দিয়ে দীর্ঘ পাইপলাইন হওয়ায় তারা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছিল। কিন্তু জ্বালানি তেলের মজুত কমে যাওয়ার পর কোম্পানির নিজস্ব মনিটরিং ব্যবস্থায় অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে। পরবর্তীতে অনুসন্ধান চালাতে গিয়েই বেরিয়ে আসে তেল চুরির এই অভিনব ও ভয়াবহ তথ্য।

মাধবপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে তারা ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে। তবে প্রধান আসামি ইসলাম উদ্দিনসহ অন্য অভিযুক্তরা আত্মগোপনে থাকায় তাদের দ্রুত আটক করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই চক্রটির সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং চুরি করা তেল তারা কোথায় সরবরাহ করত, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে এমন নাশকতামূলক ও চুরির ঘটনায় এলাকাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে রাষ্ট্রীয় সম্পদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের ধরতে পারলে তেল পাচারের মূল গন্তব্য ও নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। বর্তমানে ঘটনাস্থল ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পাইপলাইনের ছিদ্রটি স্থায়ীভাবে মেরামতের কাজ চলছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন