পরিবেশবান্ধব রাসায়নিক উৎপাদনে যুগান্তকারী পদ্ধতি উদ্ভাবন চীনা বিজ্ঞানীদের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ । ১:১৫ অপরাহ্ণ

রাসায়নিক শিল্পে যুগান্তকারী এক পরিবর্তন নিয়ে এসেছেন চীনা গবেষকরা। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত কার্বনাইলেশন প্রক্রিয়ার একটি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন তারা। এই নতুন পদ্ধতির ফলে এখন থেকে প্রথাগত ব্যয়বহুল ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ধাতব অনুঘটকের প্রয়োজনীয়তা কমে আসবে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার-এ প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে এই আবিষ্কারের বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে।

কার্বনাইলেশন রাসায়নিক উৎপাদনের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত পরিচিত এবং অপরিহার্য প্রক্রিয়া। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ওষুধ শিল্প, খাদ্য সংরক্ষক তৈরি এবং প্রসাধনী সামগ্রী উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত দামী এবং পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ধাতব অনুঘটক ব্যবহার করতে হয়, যা শিল্পকারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। চীনা বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, দামী ধাতুর পরিবর্তে কঠিন জিওলাইট অনুঘটক ব্যবহার করে একই ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া অত্যন্ত কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জিওলাইট মূলত এক ধরনের খনিজ পদার্থ, যা প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায় কিংবা কৃত্রিমভাবে তৈরি করা যায়। এর গঠনশৈলী অত্যন্ত ছিদ্রযুক্ত হওয়ার কারণে এটি বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সহায়ক মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে। নতুন এই উদ্ভাবনের ফলে রাসায়নিক উৎপাদন প্রক্রিয়ার খরচ অনেকাংশেই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, এটি পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব হ্রাস করবে, কারণ কঠিন জিওলাইটের ব্যবহার ক্ষতিকর বর্জ্য উৎপাদনের হার কমিয়ে আনে।

ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো প্রতিনিয়ত জটিল রাসায়নিক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। এই নতুন পদ্ধতির প্রয়োগ তাদের জন্য একটি বড় আশীর্বাদ হতে পারে। খাদ্য এবং প্রসাধনী শিল্পেও এর ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাসায়নিক উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও বেশি পরিবেশবান্ধব বা গ্রিন কেমিস্ট্রির দিকে এগিয়ে নিতে এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গবেষকদের দাবি, এই নতুন পদ্ধতিটি শুধুমাত্র পরিবেশ রক্ষা করবে না, বরং শিল্প খাতে উৎপাদনের গতিশীলতাও বাড়াবে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে চীনের এই আবিষ্কার গ্লোবাল কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন ধারার সূচনা করতে পারে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এর ব্যবহার শুরু হলে কার্বন নিঃসরণ এবং শিল্প বর্জ্যের ভয়াবহতা থেকে মুক্তি পাওয়া অনেকাংশে সহজ হবে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, কত দ্রুত শিল্প মালিকরা এই গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে বাস্তব কারখানায় প্রয়োগ করতে পারেন। এটি সফল হলে রাসায়নিক শিল্পে এক নতুন যুগের সূচনা হবে, যেখানে মুনাফার চেয়ে পরিবেশের সুস্থতাই বেশি প্রাধান্য পাবে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন