ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব কার হাতে, জানা যাবে রবিবার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ । ১২:১৪ অপরাহ্ণ

ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত মাসে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটতে যাচ্ছে চলতি সপ্তাহেই। দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজোগ রবিবার ঘোষণা করবেন যে, আগামী সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে। মূলত বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতাদের সাথে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পর প্রেসিডেন্ট তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য এই দিনটি নির্ধারণ করেছেন।

ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটের মোট সদস্য সংখ্যা ১২০ জন। নির্বাচনের ফলাফলের পর সরকার গঠনের জন্য যে সংখ্যক আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন, তা অর্জন করা নিয়ে সব রাজনৈতিক শিবিরেই জোর তৎপরতা চলছিল। সাম্প্রতিক বিভিন্ন তথ্য ও পর্যালোচনায় উঠে এসেছে যে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেসেটের ৬৭ জন সদস্যের সমর্থন তার পক্ষে রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে বেশি।

তবে কেবল গাণিতিক সমর্থনই সরকার গঠনের নিশ্চয়তা দেয় না। ইসরায়েলের জটিল রাজনৈতিক কাঠামোতে জোটবদ্ধ সরকার গঠন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। আইজেনকট সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি তুললেও জোট গঠনের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য এবং কৌশলগত অবস্থান নিয়ে এখনো নানা প্রশ্ন রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বলয় থেকে বেরিয়ে এসে বা তাকে পাশ কাটিয়ে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি হয় কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল কাজ করছে।

প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজোগ নিজেও এই পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করছেন। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন এবং প্রত্যেক দলের কাছ থেকে তাদের অবস্থান ও মতামত শুনেছেন। একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, সব পক্ষের সাথে আলোচনা শেষে তিনি এমন একটি সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন, যা দেশের চলমান অস্থিতিশীলতা নিরসনে ভূমিকা রাখবে। তিনি মূলত এমন কাউকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিতে চাইছেন, যিনি বিভিন্ন মতাদর্শের দলগুলোকে নিয়ে একটি স্থিতিশীল সরকার পরিচালনা করতে সক্ষম হবেন।

দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের রাজনীতিতে যে মেরুকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তাতে সরকার গঠনের প্রক্রিয়াটি কেবল দলীয় সমর্থন আদায়ের বিষয় নয়, বরং এটি জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যু এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঐক্যের সাথেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। ফলে রবিবার প্রেসিডেন্টের ঘোষণা কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দেশটির শাসনব্যবস্থার পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হতে যাচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন, যদি প্রেসিডেন্ট আইজেনকটকে সরকার গঠনের সুযোগ দেন, তবে সেটি ইসরায়েলের রাজনীতির দীর্ঘদিনের ধারায় বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত আইজাক হারজোগ কার ওপর আস্থা রাখবেন, তা দেখার জন্য রবিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। পুরো পরিস্থিতির ওপর দেশি ও বিদেশি পর্যবেক্ষকরা তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন