বিশ্বের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা ও ধস লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে গত কয়েকদিন ধরে যে উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা বিনিয়োগকারীদের মাঝে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওয়াল স্ট্রিটের একটি লেনদেন সেশনেই প্রায় আড়াই ট্রিলিয়ন ডলারের বাজার মূলধন মুছে গেছে। এই বিশাল পরিমাণ সম্পদ উধাও হয়ে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণকে চিহ্নিত করছেন বিশ্লেষকরা।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এই অস্থিরতার অন্যতম বড় কারণ হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংশয়। সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এআই খাতে যে বিপুল বিনিয়োগ করেছে, তা থেকে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা অর্জন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এআই প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল শেয়ারগুলোর দরে বড় ধরনের পতন ঘটায় সামগ্রিকভাবে নাসডাক সূচক ও অন্যান্য প্রযুক্তি খাতের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন প্রযুক্তি খাতের প্রবৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে ভাবছেন, যার ফলে তারা শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে বেরিয়ে যেতে শুরু করেছেন।
এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবও বাজারে স্পষ্ট। সদ্য সমাপ্ত মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল এবং এতে ডেমোক্র্যাটদের জয়লাভের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নির্বাচনের এই ফল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি খাতের নীতিমালার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। এআই খাতের বিকাশে কঠোর বিধিনিষেধ বা সরকারি হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে শেয়ার বিক্রির হিড়িক পড়ে যায়।
এই বিশাল পতনের রেশ কেবল মার্কিন বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ওয়াল স্ট্রিটের এই ধসের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের ওপর। বিশেষ করে এশিয়ার বাজারেও এর বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে শুক্রবার লেনদেনের শুরুতেই কোসপি সূচক প্রায় নয় শতাংশ পর্যন্ত পড়ে যায়। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক ছিল যে, বাজারে বড় ধরনের দরপতন আটকাতে অন্তত ২০ মিনিটের জন্য লেনদেন স্থগিত রাখতে হয়েছিল। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা এখন মার্কিন বাজারের এই অস্থিরতা কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের ‘প্যানিক সেলিং’ বা আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো সম্ভাবনাময় খাতের ওপর আস্থা কমে যাওয়া বাজারের জন্য একটি অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন অনেকে। যদিও অনেকে একে বাজারের স্বাভাবিক কারেকশন বা সংশোধন হিসেবেও অভিহিত করছেন, তবুও আড়াই ট্রিলিয়ন ডলারের মতো বিশাল অংকের সম্পদ একদিনে বাজার থেকে হারিয়ে যাওয়াটা অর্থনীতির জন্য মোটেও ইতিবাচক নয়।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে মার্কিন বাজারের এই টালমাটাল অবস্থার প্রভাব আগামী কয়েক দিন বিশ্ব অর্থনীতিতে কেমন থাকবে, তা নিয়ে শঙ্কা কাটছে না। বাজার স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে বলে মনে করছেন অধিকাংশ বিশ্লেষক। এখন দেখার বিষয়, মার্কিন নীতি-নির্ধারকরা প্রযুক্তিনির্ভর এই অস্থিরতা কাটিয়ে উঠতে কোনো পদক্ষেপ নেন কি না এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে কী ধরনের কৌশল অবলম্বন করেন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ । ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ