ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ । ১০:১৫ অপরাহ্ণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় উপজেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। বুধবার বিকেলে উপজেলা সদরের স্বাধীনতা চত্বর এলাকায় এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় পর্যায় থেকে জানা গেছে, কমিটি গঠনের জেরে ছাত্রদলের দুটি বিবাদমান পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে কমপক্ষে পাঁচজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ঘটনার সূত্রপাত হয় সন্ধ্যার দিকে। নবগঠিত কসবা উপজেলা ছাত্রদলের কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী এবং স্থানীয় বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার অনুসারীদের মধ্যে এই বিরোধ দীর্ঘদিনের।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্বাধীনতা চত্বরের সামনে অবস্থান নিলে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। লাঠিসোঁটা নিয়ে দুই পক্ষ একে অপরের ওপর চড়াও হয় এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনায় ওই এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সবাই নিরাপদ আশ্রয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন। সংঘর্ষের সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। এতে ছাত্রদলের অন্তত পাঁচজন কর্মী গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিভক্তি স্পষ্ট হয়েছে। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই একটি পক্ষ অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিল। এই বিরোধের জেরে বুধবার বিকেলে কসবায় নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দ অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে অপর পক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে এবং বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের এই কোন্দল নিরসনে স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতারাও কাজ করছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। আহত নেতাকর্মীদের পরিচয় এবং তাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো স্পষ্ট নয়, তবে জরুরি ভিত্তিতে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করছেন। বর্তমানে কসবা উপজেলা সদরে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে দলের নীতিনির্ধারকদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। ছাত্রদলের মতো একটি ছাত্র সংগঠনের অভ্যন্তরে এমন সহিংস ঘটনা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। পরিস্থিতি আপাতত শান্ত থাকলেও যেকোনো সময়ে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ কাজ করছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন