সাভার ও আশুলিয়া অঞ্চলে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০,০০০ টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবির জন্য বিক্ষোভে পুলিশ ও কর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের পরিণতি ঘটেছে। হেমায়েতপুর ও আশুলিয়ার কিছু স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
সংঘর্ষের সময় হেমায়েতপুরে একটি পুলিশ গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়, যার ফলে গাড়ি জ্বলে ওঠে। এই ঘটনার মধ্যে এক ওসিকে গুলিবিদ্ধ করা হয় এবং তিনি আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন। একই সঙ্গে, বিক্ষোভে উপস্থিত একাধিক সাংবাদিকও আহত হন।
বিপদের তীব্রতা কমাতে বাংলাদেশ গার্ড (বিজিবি) তৎক্ষণাৎ মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি সত্ত্বেও পরিস্থিতি কিছু সময়ের জন্য অশান্তি বজায় রাখে।
বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে সাভার ও আশুলিয়ার প্রায় দুইশো কারখানায় কর্মীদের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যদিও কিছু কর্মী এখনও কাজের জন্য ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, শ্রমিকদের দাবিগুলো ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, বেতন কাঠামোর স্বচ্ছতা এবং কাজের শর্তের উন্নতি অন্তর্ভুক্ত। তবে, বিক্ষোভের সময় ব্যবহৃত টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডের ব্যবহার আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।
এই ঘটনার পর, শ্রমিক সংগঠনগুলো সরকারকে দ্রুত ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য আইন প্রণয়নের আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর আচরণ নিয়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
অধিকাংশ বিশ্লেষক এই ঘটনাকে দেশের শ্রম নীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা হিসেবে উল্লেখ করছেন। তারা দাবি করছেন যে, শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য যথাযথ আইনি কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এমন সংঘর্ষের সম্ভাবনা কমে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ । ৮:১৪ অপরাহ্ণ