ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নির্ধারিত তারিখে উপস্থিত হতে না পারার জন্য এ বি পার্টির (বাংলাদেশ পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ তার আইনজীবীদের মাধ্যমে সময়ের অনুরোধ করেন। ফুয়াদ, যিনি দেশের রাজনৈতিক ও আইনি পরিমণ্ডলে সুপরিচিত, সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চ জ্বর ও শারীরিক দুর্বলতার শিকার হয়ে পড়েছেন, যা তাকে ট্রাইব্যুনালের উপস্থিতি থেকে বিরত রাখে।
ফুয়াদের স্বাস্থ্য অবস্থা সম্পর্কে জানানো হয়েছে যে, তিনি ডেঙ্গু ভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত, যার ফলে শারীরিক শক্তি হ্রাস পেয়েছে এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি নিজে উপস্থিত হতে অক্ষম বলে, তার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধিরা ট্রাইব্যুনালের আদালতে অনুরোধ পেশ করেন।
ফুয়াদের পক্ষে কাজ করা আইনজীবী দলটিতে ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া, ব্যারিস্টার সানী আব্দুল হক এবং একজন অ্যাডভোকেট অন্তর্ভুক্ত। তারা ট্রাইব্যুনালের রেকর্ডে ফুয়াদের স্বাস্থ্যগত অবস্থা উল্লেখ করে, রোগের তীব্রতা ও চিকিৎসা প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে, এবং একটি যুক্তিসঙ্গত সময়সীমা নির্ধারণের জন্য অনুরোধ করেন। এই আবেদনটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রোটোকল অনুযায়ী যথাযথভাবে দাখিল করা হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, যা হাগের নিকটবর্তী স্থানে অবস্থিত, বুধবার, ৪ নভেম্বরের সেশনে ফুয়াদের অনুরোধ বিবেচনা করে ২৩ নভেম্বরকে নতুন উপস্থিতির তারিখ হিসেবে নির্ধারণ করে। ট্রাইব্যুনালের এই সিদ্ধান্তটি ফুয়াদের স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং তার আইনগত প্রতিনিধিদের উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। নতুন তারিখের মাধ্যমে ফুয়াদকে যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণের সময় দেওয়া হবে এবং একই সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, যা যুদ্ধাপরাধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অন্যান্য গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করে, তার কার্যক্রমে সময়সীমা ও উপস্থিতি নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করে। তবে, রোগ বা অপ্রত্যাশিত শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে আদালত প্রয়োজনীয় ছাড় প্রদান করে থাকে, যাতে ন্যায়বিচার প্রক্রিয়া মানবিক দিক থেকে সুষম থাকে। ফুয়াদের ক্ষেত্রে এই নীতি প্রয়োগ করা হয়েছে এবং তার স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের জন্য পর্যাপ্ত সময় প্রদান করা হয়েছে।
ফুয়াদের এই আবেদন এবং ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের ফলে দেশের রাজনৈতিক ও আইনি বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন যে, স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে আইনি প্রক্রিয়ার বিলম্ব কখনো কখনো অনিবার্য, তবে তা ন্যায়বিচারের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতাকে প্রভাবিত না করে সমাধান করা উচিত। ফুয়াদ, যিনি দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন, এখন তার স্বাস্থ্যের পুনরুদ্ধারের দিকে মনোযোগ দেবেন এবং নির্ধারিত ২৩ নভেম্বরের তারিখে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে তার আইনি দায়িত্ব পূরণ করবেন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ । ৩:১৭ অপরাহ্ণ