বুধবার সকালবেলা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর ও উলাইল এলাকায় তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের বিক্ষোভে রণক্ষেত্র গড়ে ওঠে। শ্রমিকরা বেতন, কাজের পরিবেশ এবং অতিরিক্ত কাজের বিরোধে প্রতিবাদ জানাতে সমাবেশ করে, ফলে পুলিশ দফা উপস্থিত হয়। উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র শব্দবিনিময় এবং শারীরিক সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
সংঘর্ষের মাঝখানে পুলিশ ওসি সাইফুল আলমের ব্যবহৃত গাড়িতে অজানা কারণে আগুন লেগে যায়। গাড়ির আগুনের ফলে আশেপাশের কয়েকজন কর্মী ও সাংবাদিকও আহত হন। মোট আহতের সংখ্যা প্রাথমিকভাবে পঞ্চাশের কাছাকাছি জানানো হয়েছে, যার মধ্যে সাতজন পুলিশ সদস্য, ওসি সাইফুল আলম এবং তিনজন সাংবাদিক অন্তর্ভুক্ত। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে নিকটস্থ হাসপাতাল ও সাভার মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, শ্রমিকদের দাবি ছিল বেতন বৃদ্ধি, কাজের সময়সীমা হ্রাস এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি। তবে বিক্ষোভের সময় কিছু শ্রমিক গোষ্ঠী অতিরিক্ত চাহিদা ও হিংসাত্মক রীতিতে লিপ্ত হওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। পুলিশ দফা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য গুলিবিদ্ধি ব্যবহার না করে, গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার ফাটিয়ে আগুন লাগার সম্ভাবনা নিয়ে তদন্ত চলছে।
এই ঘটনার পর সাভার মডেল থানা ওসির অফিসার সাইফুল আলমের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। পুলিশ বিভাগে অভ্যন্তরীণ তদন্তের পাশাপাশি, স্থানীয় প্রশাসনও ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছে। শ্রমিক ইউনিয়নগুলোও দাবি করেছে যে, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরণের বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করা যাবে না।
এই রণক্ষেত্রের ফলে সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলের শ্রমিক আন্দোলন পুনরায় আলোচনার মুখে এসেছে। শ্রমিক সংগঠন, মানবাধিকার সংস্থা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলো একত্রে একটি সমন্বিত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষা পায় এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংলাপের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ । ৩:১৫ অপরাহ্ণ