ঢাকার রামপুরা এলাকায় মঙ্গলবার বিকালের দিকে একটি অপ্রত্যাশিত সন্ত্রাসী ঘটনার সূত্রপাত হয়। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবনের সামনের সড়কে একটি মোটরসাইকেল চালিয়ে ককটেল বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনাটি ৩ নভেম্বর, ২০২৬ তারিখে বিকাল ৪:৪৫ মিনিটের কাছাকাছি সংঘটিত হয় বলে রামপুরা থানার ওসিআই মো. জাহাঙ্গীর হোসেন নিশ্চিত করেছেন।
বিস্ফোরণের ফলে আশেপাশের গাছপালা ও সাময়িকভাবে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে ভাগ্যক্রমে কোনো ব্যক্তি আহত হয়নি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ দল দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিস্ফোরণের সূত্রপাতের পেছনের উদ্দেশ্য ও দায়ী ব্যক্তিদের অনুসন্ধান শুরু করে। ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, বর্তমানে তদন্তের অধীনে রয়েছে যে কীভাবে বোমা প্রস্তুত করা হয়েছিল এবং তা কীভাবে মোটরসাইকেলে বহন করা হয়েছিল।
বিটিভি ভবনের সামনে উপস্থিত কর্মী ও পথচারীরা বিস্ফোরণের তীব্র ধ্বনিতে চমকে যায় এবং তৎক্ষণাৎ নিরাপত্তা বজায় রাখতে স্থানীয় পুলিশ ও জরুরি সেবা দলকে জানায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রথম চিকিৎসা দল দ্রুতই কোনো আহতের উপস্থিতি না থাকায় সাইট পরিষ্কার করার কাজ শুরু করে।
রামপুরা থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেনের মতে, এই ধরনের ককটেল বোমা বিস্ফোরণ শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশের একটি চ্যালেঞ্জ। তিনি উল্লেখ করেন, “এধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালু করেছি এবং সন্দেহভাজনদের সন্ধানে নজরদারি বাড়িয়ে দিচ্ছি।”
বিটিভি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিও ঘটনাটি সম্পর্কে মন্তব্য করে জানান, “বিটিভি একটি জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা এবং আমরা সর্বদা আমাদের কর্মী ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনার বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সম্পূর্ণ সমর্থন জানাই।”
স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাটির পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, তবে তারা উল্লেখ করেন যে রামপুরা এলাকায় পূর্বে এমন কোনো সন্ত্রাসী হামলা ঘটেনি। কিছু বাসিন্দা বলেন, “এমন ঘটনা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি করে, তাই পুলিশকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।”
পুলিশের মতে, ককটেল বোমা সাধারণত সহজে তৈরি করা যায় এবং তা দ্রুত গতি সম্পন্ন যানবাহনে বহন করা সম্ভব। তাই, নিরাপত্তা সংস্থাগুলি শহরের প্রধান সড়ক ও জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
এই ঘটনার পর, ঢাকা শহরের বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা এবং স্থানীয় প্রশাসন একত্রে সমন্বয় করে শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা শুরু করেছে। বিশেষ করে, টেলিভিশন ও মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে অতিরিক্ত সিকিউরিটি গার্ড ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
অধিক তথ্য পাওয়া গেলে, রামপুরা থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন সংবাদমাধ্যমকে আপডেট দেবেন। বর্তমানে, তদন্ত চলমান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো নতুন সূত্র প্রকাশিত হলে তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ । ৯:১৫ অপরাহ্ণ