বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি ২৭ অক্টোবর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের তার বাসার নিচ থেকে একসাথে দীপ নামের এক যুবকের সঙ্গে মোটরসাইকেলে বের হন। এরপর তিনি উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের একটি বারে এক তরুণীর সঙ্গে প্রবেশ করেন, যেখানে দুজনের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। কয়েক ঘণ্টা পর সাউরি ওই তরুণীকে মোটরসাইকেলে নিয়ে তার বাসার সামনে নামিয়ে দেন।
দীপ ও তরুণীর কথাবার্তা যাচাই করার জন্য নৌ পুলিশ তাদের রিমান্ডে রেখে চার দিন ধরে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে। নৌ পুলিশ সদর দপ্তরের গণমাধ্যম শাখার সুপারভাইজার মাসুমা আক্তার জানালেন, “দীপ ও তরুণীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।” বর্তমানে নৌ পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ, স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিডিও রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
দীপের বিবরণে তিনি জানান, রাত্রিকালীন সময়ে দুইজন পুলিশ সদস্যের ইউনিফর্ম পরা ব্যক্তিকে দেখে তিনি ও সাউরি দুদিকে দৌড়ে পালিয়ে যান। তিনি তুরাগ নদীর তীরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পিলার পাশে লুকিয়ে থাকেন। পরে পুলিশ এসে তাকে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি সাউরির সঙ্গে ছিলেন বলে স্বীকার করেন, তবে পুলিশ তাকে আর কোনো প্রশ্ন না করে চলে যেতে দেন।
সাউরির শেষ যোগাযোগের রেকর্ডে দেখা যায়, রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তিনি তার মায়ের মোবাইলে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে জানান, “আসতেছি, রওনা দিছি।” একই রাত্রিতে দীপ মোহাম্মদপুরে ভাড়া বাসার দারোয়ানকে ফোন করে জানায়, তার আসতে দেরি হবে। এরপর দীপ রাতের অর্ধেকের দিকে বাসায় ফিরে যান।
তদন্তে জানা যায়, নৌ পুলিশ টঙ্গীর মাজার রোডের বস্তি এলাকায় ঘোরাঘুরি করা ভিডিও এবং অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নৌ পুলিশ ইতিমধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও সম্ভাব্য সাক্ষীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহে মনোনিবেশ করেছে।
এই মামলায় নৌ পুলিশ ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা চালু রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য প্রকাশের আশা করা হচ্ছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ । ২:১৫ পূর্বাহ্ণ