বাংলাদেশের ক্রীড়া জগতে দীর্ঘদিনের অবদান রাখার পর, বরেণ্য ক্রীড়া সংগঠক হারুনুর রশীদ আইসিইউতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, যিনি পাঁচবারের জন্য বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মৃত্যু সংবাদটি ক্রীড়া সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর শোকের স্রোত তৈরি করেছে।
হারুনুর রশীদের ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক তার কর্মজীবনের শুরুর দিন থেকেই দৃঢ় ছিল। তিনি ফুটবলের উন্নয়নে নানা নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়ন করে বাফুফের কাঠামোকে আধুনিকায়নের পথে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। পাঁচবারের সাধারণ সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত থাকাকালীন তিনি দেশের ফুটবল ক্লাব, যুব দল এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, আর্থিক সহায়তা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার নেতৃত্বে বাফুফে বহু আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পায় এবং দেশীয় লিগের মানোন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়।
জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত হওয়ায় তার ক্রীড়া সংস্থার অবদানের স্বীকৃতি পাওয়া যায়। এই সম্মানটি কেবল তার ব্যক্তিগত সাফল্যই নয়, বরং বাংলাদেশের ক্রীড়া নীতি ও ব্যবস্থাপনায় তার অবদানকে স্বীকৃতি দেয়। পুরস্কারপ্রাপ্তির পরেও তিনি ক্রীড়া সংস্থার উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে কাজ চালিয়ে গেছেন, বিশেষ করে তরুণ ক্রীড়াবিদদের প্রশিক্ষণ ও মেন্টরশিপে মনোযোগ দিয়েছেন।
হারুনুর রশীদের পরিবার, বন্ধু এবং ক্রীড়া সংস্থার সহকর্মীরা তার শেষ মুহূর্তে আইসিইউতে উপস্থিত ছিলেন। তার পরিবার জানায়, তিনি দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর আইসিইউতে ভর্তি হন এবং চিকিৎসা সেবা গ্রহণের পরেও তার অবস্থা দ্রুত উন্নত না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তার জীবন শেষ হয়। পরিবার ও সহকর্মীরা তার স্মৃতিকে সম্মান জানাতে একাধিক সমাবেশের আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন, যেখানে তার ক্রীড়া সংস্থার অবদান, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং মানবিক দিকগুলোকে তুলে ধরা হবে।
ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধিরা প্রকাশ্যে জানান, হারুনুর রশীদের অবদান কখনোই ভুলে যাওয়া যাবে না। তিনি ক্রীড়া সংস্থার নীতি-নির্ধারণে যে সততা, নিষ্ঠা এবং দূরদর্শিতা প্রদর্শন করেছেন, তা ভবিষ্যৎ ক্রীড়া নেতাদের জন্য একটি মডেল হিসেবে রয়ে যাবে। তার মৃত্যুর পর বাফুফে একটি স্মারক ট্রাস্ট গঠন করার পরিকল্পনা করেছে, যা তরুণ ক্রীড়াবিদদের প্রশিক্ষণ, স্কলারশিপ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করবে।
হারুনুর রশীদের মৃত্যু ক্রীড়া জগতে এক বড় শূন্যতা তৈরি করেছে, তবে তার আদর্শ ও কর্মদক্ষতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হবে। তার পরিবার ও সমর্থকরা তার স্মৃতিকে চিরন্তন রাখতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমের মাধ্যমে তার অবদানকে স্মরণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ । ১০:১৪ অপরাহ্ণ