ঢাকা শহরের মোহাম্মদপুর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অংশ হিসেবে কাজ করছিলেন মাসুদ হোসাইন। গত সপ্তাহে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। ঘটনাস্থলে গুলি চালিয়ে হত্যাচেষ্টা করা ব্যক্তির পরিচয় জানার জন্য পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের ধারায় জানা যায়, গুলিবিদ্ধের সময় একই এলাকায় উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফয়জুর রহমান। পুলিশ জানায়, মামলায় সংশ্লিষ্ট প্রমাণ এবং সাক্ষীর বিবৃতি থেকে ফয়জুর রহমানকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মো. মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে মোহাম্মদপুর থানা ও তদন্ত কর্মকর্তারা ফয়জুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতার আদেশ জারি করে, এবং ২ নভেম্বর (শুক্রবার) সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতারের জন্য নেয়া হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলায় স্থানান্তর করা হয়।
ফয়জুর রহমানের আইনজীবী জামিনের আবেদন দাখিল করেন, তবে আদালত তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। বিচারক উল্লেখ করেন, গুলিবিদ্ধের গুরুতরতা এবং অপরাধের প্রকৃতি বিবেচনা করে জামিন প্রদান করা উপযুক্ত নয়।
মাসুদ হোসাইন, যিনি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যার সম্মুখীন, বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। তার পরিবার ও সহকর্মীরা ঘটনাস্থল ও তদন্তের স্বচ্ছতা দাবি করে, এবং দ্রুত ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।
এই ঘটনার পর পুলিশ মোহাম্মদপুর এলাকায় নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেয় এবং ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদেরও নজরে রাখে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন, এই ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা যদি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ না করা হয়, তবে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা বাড়তে পারে।
অধিকাংশ মিডিয়া সংস্থা এবং মানবাধিকার সংগঠন এই মামলাকে নজরে রাখবে এবং ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে চলতে হবে বলে আহ্বান জানিয়েছে। ফয়জুর রহমানের গ্রেফতার এবং জামিন অস্বীকারের সিদ্ধান্তকে আইনি প্রয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ওপর আইনগত প্রয়োগের সমতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ । ৯:১৫ অপরাহ্ণ