দেশের বাজারে আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির দাম। এক মাসের ব্যবধান না পেরোতেই ফের জ্বালানি পণ্যটির বাড়তি দরে চাপে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক ঘোষিত নতুন এই মূল্যতালিকা আজ সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে। রেগুলেটরি বডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এবার ২২৩ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগে এই সিলিন্ডারের মূল্য ছিল ১ হাজার ৮৩৭ টাকা, যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬০ টাকায়। এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কেবল ১২ কেজির সিলিন্ডারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং অটোগ্যাসের দামের ওপরও পড়েছে।
বাজারে গ্যাসের সংকটের দোহাই দিয়ে জ্বালানি পণ্যের লাগামহীন দাম বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের বাজারে গ্যাসের এই মূল্যবৃদ্ধিকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর বাড়তি চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মাসিক খরচের হিসাব উলটপালট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেশের বাজারে এলপিজির দাম বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলছে।
বিইআরসির ঘোষণা অনুযায়ী, অটোগ্যাসের দামেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা। এর আগে অটোগ্যাসের দাম ছিল ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা। এভাবে ক্রমাগত দাম বাড়ার ফলে পরিবহন খাতের ওপরও পরোক্ষ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ অটোগ্যাসের দাম বাড়লে পরিবহনের খরচ বেড়ে যেতে পারে, যার শেষ পরিণতি গিয়ে পড়বে যাত্রীসাধারণের ওপর। গণপরিবহনের ভাড়ায় এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
দেশজুড়ে বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে এলপিজি গ্যাস নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অস্বস্তি কাজ করছে। মাঝেমধ্যেই সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ পাওয়া যায়, যার ফলে নির্ধারিত দামের চেয়েও অনেক সময় বেশি দামে গ্যাস কিনতে হয় সাধারণ ভোক্তাদের। এবার সরাসরি রেগুলেটরি কমিশন কর্তৃক দাম বাড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি ভোক্তাদের জন্য বাড়তি বিপত্তি নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এলপিজি খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং ভোক্তা স্বার্থ রক্ষায় বিইআরসির তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
এদিকে জ্বালানি গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে প্রতি মাসেই নতুন নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশ করছে। অথচ বিশ্ববাজারে দাম কমলে তার প্রতিফলন দেশীয় বাজারে সবসময় সমানুপাতিক হারে দেখা যায় না। বর্তমান সময়ে এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের কষ্টকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। বিইআরসির এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর থেকেই বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাধারণ ভোক্তারা এখন সরকারের কাছে এই জ্বালানি পণ্যটির দাম সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছেন। তবে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। সবমিলিয়ে গ্যাসের এই নতুন দাম এখন আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ । ৭:১৪ অপরাহ্ণ