রাজধানীর মিরপুরে গত কয়েকদিন ধরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের জেরে সৃষ্ট অস্থিরতা ও সংঘাতের ঘটনায় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিকদের যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মিরপুর এলাকা থেকে আন্দোলনকারী ও বিশৃঙ্খলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৩০ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দুপুরে এই পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্রিফিং করা হয়। পুলিশের ভাষ্যমতে, শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে যাতে কেউ কোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পোশাক শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবির পাশাপাশি আন্দোলনের নামে কোনো মহল যেন পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আন্দোলনের দুই দিন ধরে মিরপুরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক ও মোড়ে শ্রমিকদের অবস্থান ও পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বেশ কিছু স্থানে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাস্তা অবরোধের কারণে মিরপুর এলাকার যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। বর্তমানে মিরপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ ও দাঙ্গা দমন ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে।
শ্রমিক নেতাদের দাবি, তারা দীর্ঘ সময় ধরে তাদের দাবি জানিয়ে এলেও কোনো কার্যকর সমাধান না মেলায় তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন। অন্যদিকে মালিকপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বা সরকারি সম্পদ ধ্বংস করে কোনো দাবি আদায় করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এই সংঘাতের ঘটনায় যারা আইন ভঙ্গ করেছেন এবং সরকারি কাজে বাধা দিয়েছেন, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সংঘর্ষে উস্কানি দেওয়া বা এর নেপথ্যে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। যেসব থানায় মামলা হয়েছে, সেখানে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এলাকায় জনজীবনে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে পুলিশ টহল অব্যাহত রেখেছে এবং স্থানীয়দের আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি যেন আর কোনোভাবেই উত্তপ্ত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। পোশাক কারখানার মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ । ৩:১৪ অপরাহ্ণ