লক্ষ্মীপুরে মোটরসাইকেল ফেরত চাইতে গিয়ে প্রাণ হারালেন ব্যবসায়ী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ । ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ

লক্ষ্মীপুরে একটি মোটরসাইকেল নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন এক ব্যবসায়ী। ১০ মিনিটের জন্য ধার দেওয়া গাড়িটি ১৩ দিন পার হয়ে গেলেও ফেরত না পাওয়ায় তা চাইতে গিয়ে প্রাণ হারাতে হলো হোসেন মিয়া নামের ৪৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে। এই ঘটনায় নিহতের ছেলে পল্লী চিকিৎসক সাইফুল ইসলামকেও হামলাকারীদের মারধরের শিকার হতে হয়েছে বলে জানা গেছে। গত রবিবার রাতে লক্ষ্মীপুর সদর ও রায়পুর উপজেলার সীমান্তবর্তী উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের কাজিরদিঘীরপাড় এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বেশ কিছুদিন আগে একই এলাকার শাকিল হোসেন নামের এক ব্যক্তি হোসেন মিয়ার কাছ থেকে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য মোটরসাইকেলটি ধার নেন। নেওয়ার সময় তিনি মাত্র ১০ মিনিটের জন্য গাড়িটি চেয়ে নিয়েছিলেন। তবে সেই ১০ মিনিটের প্রতিশ্রুতি আর রক্ষা করা হয়নি। একপর্যায়ে ১৩ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও মোটরসাইকেলটি ফেরত না পাওয়ায় হোসেন মিয়া নিজেই তা উদ্ধারে সচেষ্ট হন। রবিবার রাতে তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে শাকিল হোসেন এবং তার সঙ্গে থাকা লোকজনের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মোটরসাইকেল ফেরত চাওয়ার বিষয়টি শাকিল ও তার সহযোগীরা ভালোভাবে নেয়নি। তারা হোসেন মিয়ার ওপর চড়াও হয় এবং তাকে বেধড়ক মারধর করে। এ সময় হোসেন মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম এগিয়ে এলে তাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। মারধরের এক পর্যায়ে হোসেন মিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত হোসেন মিয়ার পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোটরসাইকেল ফেরত না দেওয়া নিয়ে সৃষ্ট এই কলহ পূর্বপরিকল্পিতভাবে বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নেয়। শাকিল ও তার সহযোগীদের এই আচরণে স্থানীয় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা গা ঢাকা দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য নিহতের পরিবার দাবি জানিয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কীভাবে একজন মানুষের জীবন প্রদীপ নিভে গেল, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং ময়নাতদন্তসহ মামলার অন্যান্য কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন