মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। গত ১ নভেম্বর রাতে এই জলসীমায় চলাচলকারী দুটি তেলবাহী জাহাজে আকস্মিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। জাহাজগুলোতে আঘাতের কারণ হিসেবে সাগরে পুঁতে রাখা মাইনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট এলাকার নৌ-নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এই দুর্ঘটনার পেছনে নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজ দুটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত বা অনুমোদিত নৌপথ অনুসরণ করেনি। জলসীমার যে এলাকাটি দিয়ে জাহাজ দুটি অতিক্রম করছিল, তা বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য নির্ধারিত ছিল না। আইআরজিসির ভাষ্যমতে, ওই নির্দিষ্ট এলাকায় পূর্ব থেকেই নিরাপত্তার খাতিরে মাইন বা মেরিটাইম এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস পুঁতে রাখা হয়েছিল। জাহাজগুলো ভুল পথে প্রবেশ করায় ওই মাইনগুলোতে আঘাত লেগে বিস্ফোরণ ঘটে, যার ফলে জাহাজ দুটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনার পরপরই সমুদ্রপথে চলাচলকারী অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম তেল পরিবহনের রুট হওয়ায় এই ধরণের ঘটনা ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। যদিও কোনো পক্ষ সরাসরি হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী ঘটনাটি দুর্ঘটনা হিসেবেই চিহ্নিত হচ্ছে। বর্তমানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে জাহাজের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো কাজ করে যাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন মনে করছে, নির্ধারিত জলপথ ব্যবহার না করার প্রবণতা থেকেই এই ধরণের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঝুঁকি এড়াতে জাহাজের রুট নির্ধারণ এবং নৌ-চলাচলের ক্ষেত্রে কঠোর মনিটরিং প্রয়োজন। সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই এলাকা দিয়ে চলাচলের সময় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ । ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ