কক্সবাজারে নলকূপ খননকালে গ্যাস নির্গমন ও অগ্নিকাণ্ড: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরিপ শুরু

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ । ১:১৪ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারে নলকূপ খনন করতে গিয়ে ভূগর্ভস্থ স্তর থেকে গ্যাস নির্গমনের ঘটনার পর এলাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ভূগর্ভস্থ গ্যাসের উৎস ও মজুত নিরূপণের জন্য পেট্রোবাংলার বিশেষজ্ঞ দল এরই মধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘটনাস্থলের চারপাশের অন্তত ১০০ মিটারের মধ্যে মানুষের চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কোনো ধরনের ঝুঁকি এড়াতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন স্থানীয়ভাবে নলকূপ স্থাপনের জন্য মাটি খনন করা হচ্ছিল। নির্দিষ্ট গভীরতায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ করেই ভূগর্ভ থেকে গ্যাস বেরিয়ে আসতে শুরু করে। তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে আগুনের শিখা জ্বলে ওঠে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ভয়ের সঞ্চার করে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং বড় কোনো দুর্ঘটনা রোধ করতে ওই এলাকায় অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ও জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং জননিরাপত্তায় তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই গ্যাস ঠিক কী ধরনের এবং এর মজুত কতটুকু, তা নির্ণয় করা অত্যন্ত জরুরি। প্রাথমিক জরিপের মাধ্যমে গ্যাসের স্তর ও প্রকৃতির ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার আশা করছেন তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূগর্ভস্থ গ্যাসের চাপ ও উপাদানের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়, সেজন্য পুলিশের টহল ও নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছে। এলাকাবাসীকে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রশাসন জানিয়েছে, গ্যাস নির্গমনের জায়গাটি বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, এলাকাটি হয়তো আগে থেকেই প্রাকৃতিক গ্যাসের স্তরসংলগ্ন ছিল, যা খননকার্য চালানোর সময় উন্মুক্ত হয়ে গেছে। তবে নিশ্চিতভাবে কিছু বলার আগে পেট্রোবাংলার বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রয়োজন। গ্যাস নির্গমন অব্যাহত থাকায় বা আগুনের তীব্রতা বৃদ্ধির আশঙ্কায় ওই এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তার খাতিরে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞ দলের সমন্বিত উদ্যোগে গ্যাস বা আগুনের ঝুঁকি প্রশমনে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। এই ঘটনা ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে যেমন কৌতূহল রয়েছে, তেমনি সতর্কতার বিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। পেট্রোবাংলার প্রযুক্তিগত সহায়তায় পরিস্থিতি শিগগিরই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। সরকারি এই অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত এলাকাবাসীকে নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনা আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন