পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে উত্তাল শিল্পাঞ্চল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ । ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

রাজধানী ঢাকা এবং এর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলো রবিবার হঠাৎ করেই উত্তাল হয়ে ওঠে। পোশাক শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জোরালো হলে পরিস্থিতি দ্রুত ঘোলাটে হতে শুরু করে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা অসন্তোষ এবং বকেয়া বেতন-ভাতার দাবি পূরণ না হওয়ার ক্ষোভে শ্রমিকরা এদিন সকাল থেকেই রাজপথে নেমে আসেন। মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার শ্রমিক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন, যার প্রভাব পড়েছে জনজীবনে।

রোববার সকাল থেকে শিল্পাঞ্চলগুলোর প্রধান প্রধান সড়কে শ্রমিকরা অবস্থান নিলে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। অনেক জায়গায় শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোথাও কোথাও টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে দেখা যায় পুলিশকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শুধু বিক্ষোভ নয়, বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে, যার ফলে পুরো শিল্প এলাকায় এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই অস্থিরতার জেরে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে অনেক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিকাল পর্যন্ত অন্তত পাঁচটি প্রধান শিল্পাঞ্চলে ৫০০-এর অধিক কারখানায় কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের অভিযোগ, নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে বর্তমান বেতনে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বারবার আলোচনা করেও দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা কঠোর আন্দোলনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। অন্যদিকে, কারখানা মালিকপক্ষের দাবি, বৈশ্বিক মন্দা এবং অস্থির বাজারের প্রেক্ষাপটে শ্রমিকদের সব দাবি তাৎক্ষণিকভাবে মেনে নেওয়া কঠিন। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিল্প পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

শিল্পাঞ্চলগুলোতে বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ ও র‍্যাব মোতায়েন করা হয়েছে যেন কোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড না ঘটে। মালিক ও শ্রমিকপক্ষের মধ্যে দ্রুত সমঝোতা না হলে এই অস্থিরতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা। তারা বলছেন, উৎপাদন ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ব্যাহত হলে পোশাক শিল্পে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি নেমে আসবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ন্যূনতম মজুরির বিষয়টি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, সরকার ও বিজিএমইএ-এর পক্ষ থেকে শ্রমিকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনতে মালিক, শ্রমিক ও রাষ্ট্র—তিন পক্ষকেই সহনশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং শ্রমিক প্রতিনিধিরা আলোচনার টেবিলে বসে এই সংকটের কত দ্রুত টেকসই সমাধান বের করতে পারেন।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন