খুলনায় তাঁতী দলের নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ পরিবারের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ । ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

খুলনা নগরীতে সৈয়দ হুমায়ুন কবির নামের এক রাজনৈতিক নেতাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত হুমায়ুন কবির খুলনা মহানগর তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। রবিবার সন্ধ্যায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া যায়। এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং নিহতের পরিবার এই বর্বরোচিত ঘটনার জন্য স্থানীয় ছাত্রদলের এক নেতাকে সরাসরি দায়ী করছেন।

নিহতের ভাতিজা সৈয়দ দিদারুল আলম বিপ্লব দাবি করেছেন যে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী এবং নির্দেশদাতা হলেন খুলনা মহানগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরাফাত হোসেন। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে শোকার্ত স্বজনদের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি এই অভিযোগ তোলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে এবং প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, হুমায়ুন কবিরকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে কুপিয়ে জখম করা হয়েছিল। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক বিরোধ কিংবা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এমন নির্মম ঘটনা ঘটল এবং এর পেছনে অন্য কোনো পক্ষ জড়িত কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল এবং হাসপাতাল এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের স্বজনদের অভিযোগ এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করতে অভিযান শুরু হয়েছে।

খুলনার রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বজনরা দ্রুত এই ঘটনার বিচার দাবি করেছেন। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ঘটনার সময় কারা সরাসরি অংশ নিয়েছিল এবং কার নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়েছে, তা আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় মানুষজন এখন আতঙ্কিত এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছেন।

তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা এখন এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বা অন্যান্য আলামত সংগ্রহের কাজ করছেন। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পরিকল্পনা রয়েছে। আরাফাত হোসেনসহ যাদের নাম উঠে এসেছে, তাদের অবস্থান নিশ্চিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য পুলিশ বিশেষ টিম কাজ করছে। তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক এজাহার দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। নিহত হুমায়ুন কবিরের পরিবার শোকে মুহ্যমান এবং তাদের দাবি, কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে যেন অপরাধীদের ছাড় দেওয়া না হয়। পুলিশ বলছে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার আসল রহস্য উন্মোচন করা হবে এবং জড়িত কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন