রাজধানীর উত্তরার একটি রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। এই ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশি তদন্তের সাথে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই গ্রেফতারের পর তাহসিফের মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনে বেশ কিছু নতুন তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে তারা আশাবাদী।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার রাতে উত্তরার একটি রেস্টুরেন্টে তাহসিফসহ মোট তিন জনকে প্রবেশ করতে এবং পরে একত্রে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। রেস্টুরেন্টের সিসিটিভি ফুটেজে এই দৃশ্য ধরা পড়েছে। ফুটেজে দেখা যাওয়া অন্য দুই জন হলেন তাহসিফের জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ এবং তার কথিত এক বান্ধবী। ঘটনার রাত ও এর পরবর্তী সময়ের ব্যবধানে কী ঘটেছিল এবং কীভাবে তাহসিফ তুরাগ নদে গিয়ে পৌঁছালেন, তা এখনও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অস্পষ্ট। ঘটনার পরদিন বিকেলে তুরাগ নদে তাহসিফের নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধান ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার ভিত্তিতে পুলিশ তাদের কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করেছে। গ্রেফতার হওয়া দুই জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর তাদের গতিপথ এবং কী ধরনের আলাপচারিতা বা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। তাহসিফের মৃত্যুর কারণটি হত্যা নাকি অন্য কোনো দুর্ঘটনা—এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে ফরেনসিক রিপোর্ট এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
বিমানবাহিনীর সাবেক এই কর্মকর্তার অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার ও পরিচিত মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাহসিফের বন্ধুদের সাথে তার শেষ মুহূর্তের অবস্থান ও কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা গুঞ্জন ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃত দুইজনের দেওয়া তথ্যের সাথে সিসিটিভি ফুটেজের মিল রয়েছে কি না, তা নিয়েও কাজ করছেন দায়িত্বরত কর্মকর্তারা।
তদন্তকারী দল জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত মরদেহ এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে প্রতিটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট অন্য কেউ জড়িত কি না বা অন্য কোনো পক্ষকে সন্দেহ করার সুযোগ আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ আশ্বস্ত করেছে যে, অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ও তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই রহস্য উদঘাটনে তারা কাজ করছে। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে কিছুটা সময় প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে বলেই প্রত্যাশা করছে প্রশাসন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ । ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ