খুঁজুন
, ,

রাজধানীতে ট্রাফিক আইন অমান্য করায় একদিনে দুই সহস্রাধিক মামলা

আলোকিত সারাদেশ
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ
রাজধানীতে ট্রাফিক আইন অমান্য করায় একদিনে দুই সহস্রাধিক মামলা

ঢাকার যানজট এবং সড়কে বিশৃঙ্খলা নিরসনে ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। নগরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় পর্যন্ত ট্রাফিক পুলিশের এই বিশেষ তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক এক বিশেষ অভিযানে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে দুই হাজার ২২৯টি মামলা করা হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সড়কের ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দিনব্যাপী এই অভিযান পরিচালিত হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের বিভিন্ন ইউনিটের সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানে মূলত লাইসেন্সবিহীন চালক, নিয়ম অমান্যকারী যানবাহন এবং ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্যকারী চালকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে পুলিশের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ নগরবাসী, তবে একই সঙ্গে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

অভিযানে জব্দ হওয়া এবং মামলার কবলে পড়া যানবাহনের তালিকায় বিভিন্ন ধরনের যানবাহন রয়েছে। বিশেষ করে রমনা ট্রাফিক বিভাগের আওতাধীন এলাকায় অভিযান পরিচালনার সময় বাস, কাভার্ড ভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মামলা দায়ের করা হয়েছে। নগরীর ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অন্যতম কারণ হিসেবে অদক্ষ ড্রাইভিং এবং ট্রাফিক আইনের তোয়াক্কা না করার প্রবণতাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় এই আইনি পদক্ষেপগুলোকে একটি কার্যকর বার্তা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র মামলা করাই এই কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য নয়, বরং চালক ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রবণতা তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য। অনেক সময় অসচেতনতার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। তাই এই ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানোর ফলে চালক ও মালিকদের মধ্যে নিয়ম মেনে গাড়ি চালানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গণপরিবহনগুলো যেন যত্রতত্র থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো বন্ধ করে, সেদিকেও কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থা অত্যন্ত সংবেদনশীল। জনসংখ্যার চাপ এবং যানবাহনের অতিরিক্ত আধিক্যের কারণে এই নগরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চ্যালেঞ্জের মুখে থাকে সবসময়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব অনেক বেশি। প্রতিটি মোড়ে মোড়ে ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলা, লেন পরিবর্তন না করা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাথে রাখা যে বাধ্যতামূলক, তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এই উদ্যোগটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। মামলার সংখ্যা যেদিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে, তাতে বোঝা যায় যে, এখনো অনেক যানবাহন নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করেই চলাচল করছে, যা যানজট তৈরির পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।

পরিশেষে, কেবল আইনি পদক্ষেপ বা জরিমানার মাধ্যমে ট্রাফিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন চালক, হেলপার, মালিক এবং যাত্রী—সবার সচেতনতা। ট্রাফিক আইন ভঙ্গ না করার সংস্কৃতি গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। ঢাকা মহানগর পুলিশের এই ধারাবাহিক তৎপরতা সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সহায়ক হবে এমনটিই আশা করছেন নগরবাসী। ভবিষ্যতে যেন এমন অভিযান আর প্রয়োজন না পড়ে, সেই লক্ষ্যে সবাইকে নিয়ম মেনে রাস্তায় চলাচলের আহ্বান জানানো হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।

পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ, ছেলের মামলায় গ্রেপ্তার বাবা

মোঃ সুজন আলী
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
   
পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ, ছেলের মামলায় গ্রেপ্তার বাবা

ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে লালু দাস (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) গভীর রাতে ভূল্লী থানা পুলিশের সেকেন্ড অফিসার রাশেদুল ইসলাম রাশেদ ও এসআই সজিব হাসান অভিযান চালিয়ে আউলিয়াপুর ইউনিয়নের বোর্ড অফিস বাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, লালু দাসের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের কালিবাড়ী এলাকায়। বর্তমানে তিনি ভূল্লী উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের শবদল এলাকায় বসবাস করতেন। তাঁর ছেলে পাপ্পু দাস (২৮) পেশায় ঝাড়ুদার। পাপ্পু দাসের স্ত্রী লিমা (২৫)-কে ধর্ষণের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

এজাহারে পাপ্পু দাস উল্লেখ করেন, গত ৪ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে তিনি ও তাঁর মা ময়না দাস ঝাড়ু দেওয়ার কাজে বালিয়া বাজারে যান। এ সময় বাড়িতে তাঁর বাবা লালু দাস ও স্ত্রী লিমা ছিলেন।

অভিযোগে বলা হয়, সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে লিমা হাত-পা ধোয়ার জন্য বাড়ির পশ্চিম পাশে টিউবওয়েল পাড়ে গেলে লালু দাস তাঁর পিছু নেন। সেখানে তাঁকে পেছন থেকে জাপটে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে লিমা অভিযুক্তের হাতে কামড় দিলে তিনি তাঁকে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগে বলা হয়।

পরে পাপ্পু দাস ও তাঁর মা বাড়িতে ফিরে এলে লিমা তাঁদের কাছে ঘটনাটি জানান। এরপর পাপ্পু দাস ভূল্লী থানায় গিয়ে তাঁর বাবার বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেন।

ভূল্লী থানা পুলিশের সেকেন্ড অফিসার রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, “অভিযুক্ত লালু দাস ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন। শুক্রবার গভীর রাতে এসআই সজিব হাসানকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আউলিয়াপুর ইউনিয়নের বোর্ড অফিস বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

ফিলিস্তিনি শিশুদের বন্দিদশা: দুই হাজারেরও বেশি শিশু ইসরায়েলি কারাগারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
   
ফিলিস্তিনি শিশুদের বন্দিদশা: দুই হাজারেরও বেশি শিশু ইসরায়েলি কারাগারে

অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর ধরপাকড় ও নির্যাতনের চিত্র ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। নতুন প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত দুই হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি শিশুকে আটক করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং ফিলিস্তিনি বন্দি বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের প্রাপ্ত তথ্যে উঠে এসেছে যে, এই বিপুল সংখ্যক শিশুর একটি বড় অংশ ইসরায়েলি বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও হেফাজতে রয়েছে। এই পরিস্থিতিকে মানবিক বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন মানবাধিকারকর্মীরা।

বন্দি বিষয়ক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটকদের মধ্যে অন্তত ৩৫০ জন শিশুকে অত্যন্ত কঠোর এবং অমানবিক পরিস্থিতিতে কারাগারে রাখা হয়েছে। এই শিশুদের ওপর নিয়মিত মানসিক ও শারীরিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কারাগারের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবার অভাব এবং আইনি সহায়তার সীমাবদ্ধতা শিশু বন্দিদের জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘ সময় ধরে তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের কোনো সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।

ইসরায়েলি বাহিনীর এ ধরনের পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কোনো নাবালককে আটকের ক্ষেত্রে বিশেষ সুরক্ষা ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ফিলিস্তিনি শিশুদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রায়শই উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে শিশুদের সুরক্ষা ও তাদের যথাযথ অধিকার নিশ্চিত করার যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, ইসরায়েলের এই সামরিক অভিযান তার পরিপন্থি বলেই মনে করছেন বিশ্বনেতারা।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নিরাপত্তা অভিযানের নামে প্রায়ই তল্লাশি চালানো হয়, যার একটি বড় অংশই শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করে পরিচালিত হয়। অনেক সময় গভীর রাতে ঘরবাড়িতে হানা দিয়ে শিশুদের তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে, যা ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোতে এক ভয়াবহ ভীতির পরিবেশ তৈরি করেছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আটকের পর অনেক শিশুকেই মাসের পর মাস জিজ্ঞাসাবাদের নামে আটকে রাখা হয়, অথচ তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সপক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ থাকে না।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই এই শিশুদের মুক্তি এবং তাদের ওপর চলা অমানবিক আচরণ বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো সংগঠনগুলো বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করলেও, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যায়নি। উল্টো আটক শিশুদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই পরিস্থিতিতে গাজাসহ অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি শিশুরা তাদের শৈশব হারিয়ে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

কারাগারে থাকা এই শিশুদের শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা। দীর্ঘ সময় আবদ্ধ থাকার কারণে অনেক শিশুই অপুষ্টি ও মানসিক অবসাদে ভুগছে। তাদের সঠিক পুনর্বাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। কেবল বিবৃতি বা নিন্দার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, ইসরায়েলের ওপর যথাযথ কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা না হলে এই শিশুদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারেই থেকে যাবে বলে মনে করেন সচেতন মহল।

সামগ্রিকভাবে, ফিলিস্তিনি শিশুদের এই বন্দিদশা কেবল আঞ্চলিক সংকটের বহিঃপ্রকাশ নয়, এটি বিশ্ববিবেকের সামনে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি শিশু যে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য, তা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলের কাছে এখন দাবি উঠেছে, অবিলম্বে আটক শিশুদের মুক্ত করা এবং তাদের ওপর চলা এই অমানবিক নির্যাতনের ঘটনাগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার। ফিলিস্তিনি শিশুদের জীবন ও অধিকার সুরক্ষায় বিশ্ব সংস্থাগুলো কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, তা এখন দেখার বিষয়।

জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের অপেক্ষায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

আলোকিত ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ণ
   
জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের অপেক্ষায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

দেশের বিদ্যুৎ খাতের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের অপেক্ষায় রয়েছে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর মাস থেকেই এই কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বহুল প্রতীক্ষিত এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলায় এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন নীতিনির্ধারকরা।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সার্বিক কার্যক্রম এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রকল্পের সাথে যুক্ত প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, চুল্লিসহ বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন ব্যবস্থার যাবতীয় কারিগরি কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত প্রস্তুতিও এখন দৃশ্যমান। নভেম্বরের নির্ধারিত সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার জন্য এখন জোর তৎপরতা চলছে, যাতে কোনো ধরনের যান্ত্রিক বা প্রযুক্তিগত জটিলতা ছাড়াই প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন করা যায়।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প হিসেবে পরিচিত। রাশিয়ার প্রযুক্তি ও সহযোগিতায় নির্মিত এই প্রকল্পটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি কৌশলগত মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে জাতীয় গ্রিডে বিপুল পরিমাণ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ যোগ হবে, যা শিল্পকারখানা, কৃষি ও গৃহস্থালি পর্যায়ে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে সরকার দীর্ঘদিন ধরে এই প্রকল্পের কার্যক্রম তদারকি করছে।

প্রকল্প এলাকায় বর্তমানে নিরলসভাবে কাজ করছেন দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের চূড়ান্ত পর্যায়ের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় নিরবচ্ছিন্ন মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রক্রিয়া শুরুর আগে নিরাপত্তার দিকটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মানদণ্ড অনুসরণ করেই প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং হচ্ছে।

নভেম্বর মাসের এই সম্ভাব্য সময়সূচিকে কেন্দ্র করে এখন বিদ্যুৎ বিভাগ ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (পিজিসিবি) সমন্বয় সভায় নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রস্তুত করা সঞ্চালন লাইনগুলোর সক্ষমতা যাচাই এবং গ্রিডের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার কাজগুলোকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে বৈচিত্র্য আসবে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাবে বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী মহলে এই প্রকল্প নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র একটি বড় ভরসার জায়গা হয়ে উঠছে। কর্তৃপক্ষের আশা, নভেম্বরের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রক্রিয়াটি নির্বিঘ্নে শুরু করা সম্ভব হবে এবং এর সুফল দ্রুতই সাধারণ গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে যাবে।

সর্বশেষ
পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ, ছেলের মামলায় গ্রেপ্তার বাবা ফিলিস্তিনি শিশুদের বন্দিদশা: দুই হাজারেরও বেশি শিশু ইসরায়েলি কারাগারে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের অপেক্ষায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ঠাকুরগাঁওয়ে দুর্গা পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে বিজিবি সৌদি আরবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আরামকোর ভবনে আগুন ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতিবন্ধী দোকানির দোকানে হামলা-ভাঙচুর, জামিনে আসামি; নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে ট্যাপেনটাডলসহ দুইজন গ্রেপ্তার ঠাকুরগাঁওয়ে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় চুরি, ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার লুট ঠাকুরগাঁওয়ে ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির কমিটি বাতিলের দাবিতে স্মারকলিপি শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিলে জাতি শক্তিশালী হবে: প্রধানমন্ত্রী
Advertisement