খুঁজুন
, ,

জনবল সংকটে ব্যাহত চাঁদপুর ডিএনসি’র মাদকবিরোধী কার্যক্রম

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী, চাঁদপুর
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৪০ অপরাহ্ণ
জনবল সংকটে ব্যাহত চাঁদপুর ডিএনসি’র মাদকবিরোধী কার্যক্রম
মাদক একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। নিমিষেই যেকোনো পরিবার মাদকের ছোবলে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

বিশেষত যুব সমাজ এ বিপদের প্রধান শিকার হয়ে পড়ছে। মাদকের এই ভয়াল থাবা থেকে সমাজকে রক্ষা করতে সরকারি সংস্থা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। চাঁদপুর জেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে মাদক নির্মূলে। তবে জনবল সংকটের কারণে কার্যক্রমে মারাত্মক বেগ পেতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের। বর্তমান সরকারের আন্তরিকতায় আশানুরূপ ফল মিলবে বলে আশাবাদী কর্মকর্তারা।

পাশাপাশি অভিযানের সময় আত্মরক্ষার্থে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অনুমতিও শিগগির পাওয়া যাবে বলে প্রত্যাশার কথা জানান চাঁদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) এর সহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান। সম্প্রতি ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর জেলায় মোট ৮টি উপজেলা রয়েছে। এই ৮ উপজেলাকে একটি অফিস থেকেই নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে।

বর্তমানে ২৬ জন জনবলের মধ্যে ১৮ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১৪ জন কর্মকর্তার মধ্যে মাত্র ২ জন সিনিয়র ইন্সপেক্টর ও ১ জন সাব-ইন্সপেক্টর আছেন, যাঁরা টিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু বিভিন্ন জেলায় মামলার সাক্ষ্য প্রদানের কাজে ব্যস্ত থাকতে হয় প্রায় ১২ থেকে ১৫ দিন। এছাড়াও ১টি গাড়ী ও ১ জন চালক দিয়েও পুরো জেলায় অভিযান নিয়ন্ত্রণ করতেও অনেক বেগ পেতে হচ্ছে। ফলে অভিযান পরিচালনার কার্যক্রম মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) এর সহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের ইচ্ছা ও সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় দক্ষ ও সাহসী জনবলের অভাবে অভিযান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে।

এজন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জনবল বৃদ্ধির আবেদন জানিয়েছি। বর্তমান সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত আন্তরিক। যদি প্রতি উপজেলায় অন্তত ১৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি করে কার্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়, তবে মাদক নিয়ন্ত্রণ অনেক সহজ হয়ে যাবে।

আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি প্রসঙ্গে মো. মিজানুর রহমান বলেন, “আমরা অনেক সময় অত্যন্ত দুর্ধর্ষ মাদক কারবারির বিরুদ্ধে অভিযান চালাই। আত্মরক্ষার্থে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি না থাকায় কিছু সময় বিপদের মুখে পড়তে হয়। এজন্য আত্মরক্ষার স্বার্থে এবং সফল অভিযানের জন্য অনুমতি চেয়েছি। ইতিমধ্যে আমাদের প্রশিক্ষণও শুরু হয়েছে, আশা করছি শিগগিরই অনুমতি পেয়ে যাবো। অন্যদিকে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) সূত্রে আরো জানা যায়, গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে মোট ৭২৫টি অভিযান পরিচালনা করে ৭২টি মামলা দায়ের এবং ৭৪ জন আসামি গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে ৭,৫১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৮ কেজি ৮৮০ গ্রাম গাঁজা, ২ লাখ ২৩ হাজার ৩০ টাকা নগদ অর্থ, ৮টি মোবাইল ফোন ও মাদক সেবনের বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করা হয়েছে। এছাড়াও মাদকের কুফল ও ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তুলতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেমন হাজীগঞ্জ পাইলট বালিকা, লেডি দেহলভী, এম এম নুরুল হক, ডি এন, বলাখাল চন্দ্রবান বালিকা, আইনগিরী উচ্চ বিদ্যালয়, বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, গল্লাক দারুচ্ছুন্নাত আলিম মাদ্রাসা,পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজ এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা, অভিভাবক সমাবেশ, মাদকবিরোধী প্রীতি ফুটবল ম্যাচসহ নানা কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেছেন, আমি জনবল সংকটের ব্যাপারটা অবগত আছি। আসলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এটা একটা বড় সমস্যা।

আমি বিভাগীয় সভা গুলোতেও এ ব্যাপারে আলোচনা করেছি। এছাড়াও ডিসি সম্মেলনেও এ ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করবো। আশাকরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। চাঁদপুর ডিএনসি’র কর্মকর্তারা জানান, জনবল সংকট নিরসন ও পর্যাপ্ত সরঞ্জাম সরবরাহ পেলে মাদকমুক্ত চাঁদপুর গড়ে তুলতে আরও কার্যকরভাবে কাজ করা সম্ভব হবে।

শাহরুখের ‘কিং’ সিনেমার গানে সুর চুরির অভিযোগ, মুখ খুললেন মৌসুমী ভৌমিক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
   
শাহরুখের ‘কিং’ সিনেমার গানে সুর চুরির অভিযোগ, মুখ খুললেন মৌসুমী ভৌমিক

বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের আসন্ন সিনেমা ‘কিং’ মুক্তির অপেক্ষায়। এই সিনেমা নিয়ে দর্শকদের আগ্রহের শেষ নেই। কিন্তু সিনেমাটি মুক্তির আগেই এক বড়সড় বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে এর অন্যতম গান ‘তু মিল যায়ে’। প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে গানটি শ্রোতাদের একাংশ দারুণভাবে পছন্দ করলেও, নেটিজেনদের বড় একটি অংশ সুর চুরির অভিযোগে সরব হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, গানটির সুর পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী মৌসুমী ভৌমিকের কালজয়ী সৃষ্টি ‘আমি শুনেছি সেদিন তুমি’ থেকে হুবহু নকল করা হয়েছে। এই বিতর্ক এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ‘কিং’ সিনেমার গান ‘তু মিল যায়ে’ প্রকাশ্যে আসে। গানটি শোনার পর থেকেই সংগীতপ্রেমী ও মৌসুমী ভৌমিকের ভক্তরা দাবি করতে থাকেন যে, সুরের বিন্যাস, তাল ও মেলোডি মৌসুমীর মৌলিক গানের সঙ্গে অবিশ্বাস্যভাবে মিলে যাচ্ছে। সুরের এই সাদৃশ্য কাকতালীয় নয় বলে মন্তব্য করছেন অনেকে। বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। মৌসুমীর এক অনুরাগী প্রথম সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে সরব হন এবং সুর চুরির অভিযোগ তুলে একটি বিস্তারিত পোস্ট করেন। সেই পোস্টের পর থেকেই ঘটনার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলা সংগীতের জগতে নিজের অনন্য শৈলীতে জায়গা করে নিয়েছেন মৌসুমী ভৌমিক। তার ‘আমি শুনেছি সেদিন তুমি’ গানটি কেবল পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দুই বাংলার বাংলা ভাষাভাষী শ্রোতাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ও নস্টালজিক একটি সৃষ্টি। সেই গানের সুর অপরিবর্তিত রেখে বা কিছুটা অদলবদল করে বলিউড সিনেমায় ব্যবহার করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনুরাগীরা। তারা একে সৃজনশীলতার অভাব এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখছেন। বিষয়টি নিয়ে চলচ্চিত্র সমালোচকদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

এত বড় অভিযোগের পর অবশেষে মুখ খুলেছেন স্বয়ং মৌসুমী ভৌমিক। তবে তিনি সরাসরি কোনো আইনি লড়াইয়ের কথা জানাননি। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন এবং দর্শকদের মন্তব্যের ভিত্তিতে পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। মৌসুমীর এই নীরবতা বা সংযত প্রতিক্রিয়া নিয়েও ভক্তরা নানাভাবে বিশ্লেষণ করছেন। কেউ বলছেন, শিল্পী হয়তো বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপের কথা ভাবছেন, আবার কেউ মনে করছেন তিনি বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় সুর চুরির এই অভিযোগ নিয়ে আলোচনার ঝড় থামার কোনো লক্ষণ নেই।

বলিউডে সুর চুরির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। অতীতেও বহুবার বড় বাজেটের সিনেমার গান বিদেশি বা আঞ্চলিক কোনো গানের সুরের সঙ্গে মিলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ‘কিং’ সিনেমার নির্মাতাদের পক্ষ থেকে এখনো এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। বলিউড ইন্ডাস্ট্রির একাংশের মতে, সুরের সাদৃশ্য অনেক সময় অনিচ্ছাকৃতও হতে পারে, কিন্তু শ্রোতারা যখন সরাসরি চুরির অভিযোগ আনেন, তখন বিষয়টি বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এখন দেখার বিষয়, ‘কিং’ সিনেমার নির্মাতারা কি এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোনো সাফাই দেবেন, নাকি বিতর্ক এড়িয়ে সিনেমা মুক্তির দিকেই মনোনিবেশ করবেন। গায়িকা মৌসুমী ভৌমিকের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে সংগীত জগৎ ও তার অগণিত ভক্তরা।

রাজধানীতে সক্রিয় গাড়ির যন্ত্রাংশ চোর চক্র, গ্রেফতার ৪

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
   
রাজধানীতে সক্রিয় গাড়ির যন্ত্রাংশ চোর চক্র, গ্রেফতার ৪

রাজধানী ঢাকায় গাড়ির মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি ও অবৈধভাবে তা মজুতকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে গুলশান থানা পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে অভিনব কায়দায় গাড়ি থেকে বিভিন্ন দামি পার্টস সরিয়ে ফেলে তা নিজেদের হেফাজতে রেখে বিক্রি করে আসছিল এই চক্রটি। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মুগদা ও সবুজবাগ এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন মো. জসিম, মো. হারুন, আলামুন হুদা ওরফে মোল্লা এবং সুলতান। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এদের প্রত্যেকের বয়স চল্লিশের কোঠা থেকে ষাটের বেশি। দীর্ঘদিন ধরে তারা এই অপকর্মের সাথে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত যন্ত্রাংশগুলো চোরাই পথে সংগ্রহ করা হয়েছিল কি না এবং সেগুলো কোথায় বিক্রির পরিকল্পনা ছিল, তা খতিয়ে দেখতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় ওত পেতে থেকে এই চক্রটি সুযোগ বুঝে গাড়ির মূল্যবান পার্টস খুলে নিয়ে যেত। পরবর্তীতে এসব যন্ত্রাংশ তাদের গোপন আস্তানায় মজুত রাখা হতো। জব্দ করা যন্ত্রাংশের বাজারমূল্য বেশ ভালো হওয়ায় এবং সহজে হাতবদল করা যায় বিধায় তারা এই অপরাধমূলক কার্যক্রম বেছে নেয় বলে পুলিশের ভাষ্য।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে যে, গুলশান থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল এই অভিযানে অংশ নেয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা তাদের অপরাধের কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এই চক্রের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না বা ঢাকা মহানগরীর অন্য কোনো এলাকায় তাদের আরও কোনো গোপন আস্তানা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে।

রাজধানীর গাড়ি মালিকরা দীর্ঘদিন ধরেই যন্ত্রাংশ চুরির আতঙ্কে ছিলেন। পুলিশের এই সফল অভিযানে কিছুটা হলেও জনমনে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই চোর চক্রের পেছনে আর কোন কোন প্রভাবশালী ব্যক্তি বা সিন্ডিকেট কাজ করছে, তা উন্মোচনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তৎপর রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুতই এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হবে।

কক্সবাজারে প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ী, আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রামে স্থানান্তর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
   
কক্সবাজারে প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ী, আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রামে স্থানান্তর

কক্সবাজার সদর উপজেলার খরুলিয়া এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে সদর উপজেলার খরুলিয়া লাল গোলাপ কমিউনিটি সেন্টারের সামনে এই ভয়াবহ হামলার ঘটনাটি ঘটে। গুলিতে আহত মাহমুদুল হক নামের ৪৫ বছর বয়সী ওই ব্যবসায়ী বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার আকস্মিকতায় ওই এলাকায় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাহমুদুল হক একটি মাইক্রোবাসে করে যাতায়াত করছিলেন। খরুলিয়া লাল গোলাপ কমিউনিটি সেন্টারের কাছাকাছি পৌঁছালে মোটরসাইকেলে করে আসা ছয়জনের একটি দল তার পথরোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। দিনের আলোতে এমন দুঃসাহসিক ও নৃশংস হামলার ঘটনা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আলামত সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে আশপাশের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণের কাজ শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ী মাহমুদুল হক ঠিক কী কারণে হামলার শিকার হলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক শত্রুতা, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং আইনের আওতায় আনতে এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে। অপরাধীরা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। এদিকে, আহত ব্যবসায়ীর স্বজনরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত সংকটাপন্ন। পরিবারের পক্ষ থেকে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল এবং ব্যবসায়ীরা এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন। ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সর্বশেষ
শাহরুখের ‘কিং’ সিনেমার গানে সুর চুরির অভিযোগ, মুখ খুললেন মৌসুমী ভৌমিক রাজধানীতে সক্রিয় গাড়ির যন্ত্রাংশ চোর চক্র, গ্রেফতার ৪ কক্সবাজারে প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ী, আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রামে স্থানান্তর ত্বকের যত্নে ভিটামিন সি: সব প্রসাধনীতে কি এর প্রয়োজন আছে? অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে সড়ক ছাড়লেন হোম ইকোনমিকসের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধস, দায় চাপালেন ট্রাম্প দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত: উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু সিলেটে সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে হঠাৎ অসুস্থ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী রোনালদোর অনন্য কীর্তিকে অবিনশ্বর বললেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো পরিবারই সব: ক্যানসারজয়ী স্ত্রীর পাশে থেকে জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে পেলেন টিকনার