খুঁজুন
, ,

গাজায় নৃশংস বর্বরতার প্রতিবাদে সোচ্চার ফেনী

মোঃ আবদুল রহিম, ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৫, ১:৩৬ অপরাহ্ণ
গাজায় নৃশংস বর্বরতার প্রতিবাদে সোচ্চার ফেনী
গাজায় ইসরাইলের চলমান নৃশংস ধ্বংসযজ্ঞ ও বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে ফেনী জেলাজুড়ে চলছে প্রতিবাদ ও সংহতি কর্মসূচি। ফেনী শহর ও সোনাগাজী উপজেলায় পৃথক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এতে সংহতি প্রকাশ করে বিবৃতি দেয়। ফেনী জেলা স্বেচ্ছাসেবী পরিবারের ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলটি
বাদ যোহর ফেনী শহরের ঐতিহ্যবাহী জহিরিয়া মসজিদ থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় ‘ফিলিস্তিনে হামলা কেন জাতিসংঘ জবাব চায়’ ‘জিহাদ জিহাদ জিহাদ চাই, জিহাদ করে বাঁচতে চাই’ ‘এ জিহাদে জিতবে কারা বিশ্বনবীর সৈনিকেরা’, ‘বিশ্ব মুসলিম ঐক্য গড়, ফিলিস্তিন স্বাধীন করো, ‘নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবর’, ‘ইসরাইলের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিশ্ব বিবেক আজ নিশ্চুপ। কোথায় মানবাধিকার?
গাজায় চলমান নৃশংস ধ্বংসযজ্ঞ ও হামলার প্রতিবাদে ফেনী জেলাজুড়ে চলছে প্রতিবাদ ও সংহতি কর্মসূচি। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এতে সংহতি প্রকাশ করে বিবৃতি দেয়
সংহতি প্রকাশ করল ফেনীর শিক্ষার্থীরা
ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান সহিংসতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণহত্যার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী পালিত ‘গ্লোবাল স্ট্রাইক ফর গাজা’ কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়েছে ফেনীর শিক্ষার্থীরা।
আমাদের শক্তি সঞ্চয় করে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সমস্ত মুসলমান ভাই ভাই ও একটি দেহের মতো। দেহের একটি অঙ্গ যদি ঠিকমতো কাজ না করে তাহলে শারীরিক ক্রিয়া যেমন ব্যাহত হয়, ঠিক তেমনি একজন মুসলিম ভালো না থাকলে অন্যরাও ভালো থাকতে পারে না। মুসলিম হিসেবে আমাদের লজ্জা অনুভব হয় যে, আমরা এখনও এই অসহ্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামতে পারছি না। আমরা ভুলে যেতে বসেছি মুসলমানদের পুরনো ঐতিহ্য।
ফেনী জেলা স্বেচ্ছাসেবী পরিবারের প্রতিনিধি ওসমান গনি রাসেল বলেন, আজ ফিলিস্তিনের মাটিতে যে নির্মম গণহত্যা চলছে, তা কেবল ফিলিস্তিনিদের উপর আঘাত নয়, বরং এটি সমগ্র মুসলিম উম্মাহর উপর একটি চরম অবমাননা। শিশু, নারী, নিরীহ মানুষদের রক্তে আজ রঞ্জিত গাজা। অথচ বিশ্ব বিবেক চুপ করে আছে। জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংস্থা সবাই আজ নিশ্চুপ। ফেনী জেলা স্বেচ্ছাসেবী পরিবারের আরেক প্রতিনিধি নুর নবী হাসান বলেন, জাতিসংঘ আজ নির্বিকার। তারা মুখে শান্তির কথা বললেও কাজে নিষ্ক্রিয়। আর মুসলিম রাষ্ট্রগুলো যেন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন একটি রাষ্ট্রও দৃশ্যমান ভূমিকা নিচ্ছে না। এই নীরবতা একধরনের অপরাধ। আজ যদি আমরা চুপ থাকি, তবে কাল ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না। আমরা বিশ্বাস করি, যদি মুসলিমরা আজ ঐক্যবদ্ধ হয়, তবে ওই জালিম শত্রুরা পালানোরও জায়গা পাবে না।
জেলা স্বেচ্ছাসেবী পরিবারের প্রতিনিধি ওসমান গনি রাসেলের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন স্বেচ্ছাসেবী ওমর বিন কাসেম সিফাত, খন্দকার সুমন, বিশিষ্ট সংগঠক আজিজ উল্যাহ আহমদী, কবি ও সংগঠক স্বাধীন মুরশিদ। এতে উপস্থিত ছিলেন নিশাদ আদনান, পিয়াস, জাহাঙ্গীর সহ স্বেচ্ছাসেবী পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
একইদিন বিকেলে সোনাগাজী উপজেলায় সোনাগাজী স্বেচ্ছাসেবী পরিবারের ব্যানারে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সোনাগাজী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ জামে মসজিদে আসরের নামাজ শেষে মিছিলটি শুরু হয়ে পৌর শহরের জিরো পয়েন্টে এসে শেষ হয়।
এ সময় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সোনাগাজী ব্লাড ডোনেট অর্গানাইজেশনের প্রতিষ্ঠাতা ইয়াছিন মাহমুদ, সোনাগাজী স্বেচ্ছায় রক্তদান ফাউন্ডেশনের সভাপতি আলমগীর হোসেন, স্বপ্নচারী মানব কল্যাণ সংস্থার সহ সভাপতি জিয়া উদ্দিন হৃদয়, মানবতার ডাক’র সহসভাপতি এমদাদ হোসেন সুজন, মুনস্টারের আবুল কালাম আজাদ, নিসআর শাহাদাত হোসেন সজিব, ফেনী সরকারি কলেজ শিক্ষার্থী আবুল কামাল আজাদ।
প্রতিবাদ সমাবেশে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক উপজেলা সভাপতি আব্দুল মোমিন শিক্ষাঘর সোনাগাজীর সভাপতি হোসাইন আজাদ, স্বপ্নসিড়ির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম হাসান, স্বপ্নচারীর সভাপতি নাজমুল ইসলাম,
শিক্ষা ঘরের শিবলু, ছাত্রদল নেতা বেলাল হোসেন রাহাদ, গিয়াস উদ্দিন হৃদয়, মানবতার ডাক’র এএইচ রাসেল, পাঠকবন্ধুর নির্বাহী সদস্য দেলোয়ার হোসেন, স্বেচ্ছাসেবী পরিবারের শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী ও বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ অংশ নেয়। সরকারি কলেজ, ফেনী ইউনিভার্সিটি ও ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীরা পৃথকভাবে সংহতি প্রকাশ করে বিবৃতি দেয়।
ফেনী সরকারি কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এক বিবৃতিতে উল্লেখ করে, আমরা ফেনী সরকারি কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা, গ্লোবাল স্ট্রাইক ফর গাজার প্রতি সংহতি প্রকাশ করছি। ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান গণহত্যা, মিসাইল হামলা, রাসায়নিক গ্যাস আক্রমণ এবং সীমাহীন সহিংসতার মুখে আমরা নীরব থাকতে পারি না। ২০২৫ সালের ৭ই এপ্রিল, সোমবার, আমরা পুরো বিশ্বের সাথে একাত্মতা পোষণ করে গে-াবাল স্ট্রাইক ফর গাজায় অংশ নিচ্ছি। ক্রমাগত বোমাবর্ষণ, অনাহার এবং বাকস্বাধীনতা হরণের মাধ্যমে যে নিপীড়ন চলছে ফিলিস্তিনে, তা উপেক্ষা করা যায় না। এটি শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক সংকট নয়-এটি একটি গভীর নৈতিক সংকট। এখনই সময় সোশ্যাল মিডিয়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে একত্রিত হওয়ার, প্রতিবাদ করার, সংগঠিত হওয়ার এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার।
বিবৃতিতে তারা আরও উল্লেখ করে, আমরা গাজায় ইসরায়েলের পরিচালিত গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানাই, পাশাপাশি নিন্দা জানাই যুক্তরাষ্ট্র সহ অন্যান্য পরাশক্তিদের অকুন্ঠ সমর্থনেরও। একইসাথে, আমরা তীব্রভাবে নিন্দা জানাই সেইসব রাষ্ট্রের, বিশেষ করে আরব দেশগুলোর, যারা এই নির্মমতার সময় নীরব থেকেছে। তাদের নিষ্ক্রিয়তাই এই গণহত্যাকে অব্যাহত রাখার সুযোগ করে দিয়েছে। আমরা, ফেনী সরকারি কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা, গাজার পাশে আছি। ৭ই এপ্রিল চলুন আমরা এক কণ্ঠে আওয়াজ তুলি ন্যায়বিচার, শান্তি এবং মানবতার পক্ষে।
এদিন একই ধরনের বিবৃতি দিয়ে সংহতি প্রকাশ করে ফেনী ইউনিভার্সিটি ও ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বিশ্বের পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে বেইজিংয়ের প্যালেস মিউজিয়াম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:১৫ অপরাহ্ণ
   
বিশ্বের পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে বেইজিংয়ের প্যালেস মিউজিয়াম

সাধারণত বিশ্ব ভ্রমণের পরিকল্পনার কথা উঠলে পর্যটকদের মনে প্রথমেই ইউরোপের প্যারিস, লন্ডন কিংবা ইতালির বিভিন্ন ঐতিহাসিক জাদুঘরের নাম ভেসে ওঠে। ল্যুভর মিউজিয়াম বা ব্রিটিশ মিউজিয়ামের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘ সময় ধরে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে, পর্যটকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এখন পর্যটকদের ভিড়ের দিক থেকে ইউরোপের জাদুঘরগুলোকে টেক্কা দিয়ে তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে এশিয়ার একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা।

থিমড এন্টারটেইনমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানুষ ঘুরে দেখছেন চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অবস্থিত প্যালেস মিউজিয়াম। ফরবিডেন সিটি বা নিষিদ্ধ নগরী নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই স্থাপনাটি কেবল চীনের ইতিহাস নয়, বরং বিশ্ব ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন। গত কয়েক বছর ধরে পর্যটকদের কাছে এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের পর্যটন তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকা এই বিশাল প্রাসাদে রেকর্ড সংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছে, যা অন্যান্য দেশের নামীদামি জাদুঘরগুলোকে পেছনে ফেলে দিয়েছে।

কেন বেইজিংয়ের এই প্যালেস মিউজিয়াম পর্যটকদের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠছে, তার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। প্রথমত, এর বিশাল স্থাপত্যশৈলী এবং সংরক্ষিত প্রাচীন ঐতিহ্যের বিশাল ভাণ্ডার পর্যটকদের সহজেই মুগ্ধ করে। মিং এবং চিং রাজবংশের শাসনামলে নির্মিত এই বিশাল প্রাসাদ কমপ্লেক্সটি কয়েকশ বছর ধরে চীনের ক্ষমতা ও সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল। সময়ের বিবর্তনে এটি এখন কেবল একটি দর্শনীয় স্থান নয়, বরং ইতিহাস প্রেমীদের কাছে তীর্থস্থানের মতো। বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে পর্যটন খাতের যে উন্নয়ন ঘটছে, তাতে চীন সরকার তাদের ঐতিহাসিক স্থানগুলো রক্ষণাবেক্ষণ এবং পর্যটনবান্ধব করার জন্য ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। এর ফলে ফরবিডেন সিটিতে এখন আধুনিক সুযোগ-সুবিধাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইউরোপের দেশগুলো যেখানে বছরের পর বছর ধরে পর্যটন খাতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছিল, সেখানে চীনের এই অর্জন বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, পর্যটকদের এখন কেবল শিল্পকলার জাদুঘর নয়, বরং জীবন ঘনিষ্ঠ ও বিশাল পরিসরের ঐতিহাসিক স্থাপনার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। প্যালেস মিউজিয়ামের এই জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে যে, দর্শনার্থীরা এখন এমন জায়গায় ভ্রমণ করতে পছন্দ করছেন যেখানে স্থাপত্য, সংস্কৃতি এবং ইতিহাসের এক অদ্ভুত মিলনমেলা দেখা যায়।

বেইজিংয়ের এই অর্জন কেবল জাদুঘরটির ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি পুরো এশীয় অঞ্চলের পর্যটন খাতের জন্য একটি বড় স্বীকৃতি। একদিকে যেমন চীনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিশ্বদরবারে নতুন করে সমাদৃত হচ্ছে, অন্যদিকে পর্যটন অর্থনীতিতেও এটি বড় ভূমিকা রাখছে। তবে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম সামলানো এখন কর্তৃপক্ষর জন্য একটি চ্যালেঞ্জও বটে। তাই অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে এবং দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা আরও আনন্দদায়ক করতে ডিজিটাল টিকিটিং ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব ভ্রমণের তালিকায় যারা নিজেদের নতুন করে সাজাচ্ছেন, তাদের কাছে এখন বেইজিংয়ের এই নিষিদ্ধ নগরী বা প্যালেস মিউজিয়াম অবশ্যই প্রথম সারির একটি গন্তব্য হয়ে উঠেছে।

দেশকে কখনোই ক্লায়েন্ট স্টেট হতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
   
দেশকে কখনোই ক্লায়েন্ট স্টেট হতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। এই বিপ্লবের তাৎপর্য ও দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ঘোষণা করেছেন যে, বাংলাদেশকে কোনো অবস্থাতেই অন্য কোনো রাষ্ট্রের ক্লায়েন্ট স্টেট বা অনুগত রাষ্ট্রে পরিণত হতে দেওয়া হবে না। জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দেশের মর্যাদা সমুন্নত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

৭ নভেম্বরের সেই বিপ্লব বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার পথ নির্ধারণ করে দিয়েছিল বলে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন। তার মতে, ওই ঐতিহাসিক ঘটনা দেশের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি বদলে দিয়েছিল এবং একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মমর্যাদা নিয়ে টিকে থাকার প্রেরণা যুগিয়েছিল। সেই বিপ্লব দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে যে বার্তা বহন করেছিল, তা আজও প্রাসঙ্গিক। এই চেতনাকে ধারণ করেই বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনা করছে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলে তিনি জোর দিয়ে বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বাংলাদেশের ভূ-রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটও স্পর্শ করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কূটনৈতিক সম্পর্ক বা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যাই হোক না কেন, দেশের স্বকীয়তা বজায় রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য। অন্য কোনো শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়নের মাধ্যম হিসেবে বাংলাদেশকে ব্যবহৃত হতে দেওয়া হবে না। তার এই বক্তব্যটি মূলত দেশের জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনা জোরদার করার একটি বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন যে, ইতিহাসের শিক্ষা থেকেই বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পথ চলতে হবে। দেশ যে গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে জনগণের মতামতের প্রতিফলন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো বিদেশি শক্তির প্রভাবে বা চাপে পড়ে দেশের নীতি নির্ধারণের দিন শেষ হয়েছে বলেও তিনি অভিমত প্রকাশ করেন। দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নে সরকার আত্মনির্ভরশীল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের পবিত্র কর্তব্য। কোনো চক্রান্তই বাংলাদেশের উন্নয়নের পথকে রুদ্ধ করতে পারবে না। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, বর্তমান প্রশাসন যেকোনো মূল্যে দেশের স্বাধীনতা ও সম্মান রক্ষার জন্য কাজ করে যাবে। ৭ নভেম্বরের সেই বিপ্লবী চেতনা থেকেই আগামী দিনে সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার কাজে সরকার অবিচল থাকবে।

দেশভাগের ক্ষত ও স্মৃতির দহনে নীলকণ্ঠ পাখির প্রতীকি অনুসন্ধান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
   
দেশভাগের ক্ষত ও স্মৃতির দহনে নীলকণ্ঠ পাখির প্রতীকি অনুসন্ধান

মানবজীবনের পথে এমন কিছু গভীর ক্ষত তৈরি হয়, যা সময়ের সাথে মুছে যায় না বরং স্মৃতির পাতায় আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। ইতিহাস যখন রাজনীতির চশমা দিয়ে বিচার করা হয়, তখন অগণিত সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত বেদনার আখ্যানগুলো প্রায়ই আড়ালে পড়ে যায়। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এমন এক রাজনৈতিক বিভাজন, যা কেবল মানচিত্রের সীমানা নির্ধারণ করেনি, বরং চিরতরে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে হাজারো মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, জীবনযাত্রা এবং পরিচয়ের ভিত্তি। ইতিহাসের পাতায় দেশভাগ একটি রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে নথিভুক্ত থাকলেও, এর গভীরে লুকিয়ে থাকা মানবিক সংকটের চিত্রটি আজও অমীমাংসিত এক ট্র্যাজেডি হিসেবে বিবেচিত হয়।

দেশভাগের ফলে সৃষ্ট যে ভৌগোলিক ও মানসিক সীমানা তৈরি হয়েছিল, তা মানুষের হৃদয়ের ওপর এক দীর্ঘস্থায়ী প্রলেপ ফেলে দিয়েছে। নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে অজানা ঠিকানায় পাড়ি জমানোর সেই দুঃসহ স্মৃতি আজো বহু মানুষের রাতের ঘুম কেড়ে নেয়। এই বিচ্ছেদের বেদনায় যারা জর্জরিত, তাদের জন্য দেশ কেবল একটি ভূখণ্ড নয়, বরং এটি শৈশবের স্মৃতি, ফেলে আসা প্রিয়জন এবং শেকড়ের টান। নীলকণ্ঠ পাখি এখানে সেই হারানো সুখ ও অজানার ঠিকানায় শান্তির প্রত্যাশার একটি প্রতীক হিসেবে উঠে এসেছে। কোনো মানুষের হৃদয়ে গেঁথে থাকা সেই ফেলে আসা স্বদেশের গল্পগুলো নতুন করে ফিরে পাওয়ার আকুতি নিয়েই যেন নীলকণ্ঠের খোঁজে মানুষ আজও অতীতে ফিরে যায়।

আমাদের সমাজে এমন অনেক আখ্যান রয়েছে যা দেশভাগের বিভীষিকাকে তুলে ধরে। সেই সব গল্পের গভীরে তাকালে দেখা যায়, দেশভাগ মানেই কেবল জায়গা পরিবর্তন নয়, বরং নিজের সত্তার একটি বড় অংশকে বিসর্জন দেওয়া। মানুষের জীবনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়, তা পূরণ করার মতো কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা আজও সেভাবে কার্যকর হয়নি। সাহিত্য ও শিল্পকলায় বারবার ফিরে আসে সেই চিরচেনা গ্রাম, নদীর বাঁক আর ফেলে আসা মানুষের মুখচ্ছবি। নীলকণ্ঠ পাখির রূপক ব্যবহার করে যেন সেই হারিয়ে যাওয়া স্বর্গের সন্ধানই করা হচ্ছে, যেখানে কোনো কাঁটাতার বা বিভেদ ছিল না।

বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে আমরা যখন সেই ফেলে আসা দিনগুলোর কথা স্মরণ করি, তখন অনুধাবন করা যায়, দেশভাগের ক্ষত কেবল ব্যক্তি মানুষের নয়, তা এক পুরো প্রজন্মের সামগ্রিক ট্র্যাজেডি। সময়ের স্রোতে অনেক কিছু বদলে গেলেও মানুষের শিকড় খোঁজার এই আদিম বাসনা আজও অটুট। হারানো দেশ, হারিয়ে যাওয়া মানুষ এবং সেই প্রিয়জনদের সন্ধানে নীলকণ্ঠ পাখির উড়াল আসলে আমাদের সম্মিলিত চেতনার এক অংশ। এই অনুসন্ধানের মাধ্যমে মূলত আমরা নিজের পরিচয় ও অস্তিত্বের শিকড়কে নতুন করে চিনতে চেষ্টা করি। স্মৃতির এই দীর্ঘযাত্রায় নীলকণ্ঠ পাখির প্রতীক যেন সেই হারানো মায়া আর ভালোবাসার জয়গান গেয়ে চলে, যা সীমানার বেড়াজাল পেরিয়ে মানুষের হৃদয়ে হৃদয়ে আজও স্পন্দিত হয়।

সর্বশেষ
বিশ্বের পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে বেইজিংয়ের প্যালেস মিউজিয়াম দেশকে কখনোই ক্লায়েন্ট স্টেট হতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী দেশভাগের ক্ষত ও স্মৃতির দহনে নীলকণ্ঠ পাখির প্রতীকি অনুসন্ধান শাহরুখের ‘কিং’ সিনেমার গানে সুর চুরির অভিযোগ, মুখ খুললেন মৌসুমী ভৌমিক রাজধানীতে সক্রিয় গাড়ির যন্ত্রাংশ চোর চক্র, গ্রেফতার ৪ কক্সবাজারে প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ী, আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রামে স্থানান্তর ত্বকের যত্নে ভিটামিন সি: সব প্রসাধনীতে কি এর প্রয়োজন আছে? অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে সড়ক ছাড়লেন হোম ইকোনমিকসের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধস, দায় চাপালেন ট্রাম্প দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত: উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু